বিনোদন প্রতিবেদক
আজ ২৩ জুলাই, দেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, সুরকার, লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২১ সালের এই দিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গণসংগীতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং এর আধুনিকায়নে আজীবন কাজ করে যাওয়া এই শিল্পীর প্রয়াণ দিবসে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্ম নেন ফকির আলমগীর। ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন তিনি। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জাদুকরি কণ্ঠ দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
লোকসংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মেলবন্ধনে গণসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে অনন্য অবদান রাখেন ফকির আলমগীর। তাঁর গাওয়া ‘ও সখিনা গেছোস কিনা ভুইলা আমারে’, ‘নাম তার ছিল জন হেনরি’, ‘মায়ের এক ধার দুধের দাম’-এর মতো বহু গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফিরে। গণসংগীতের বিস্তার ঘটাতে তিনি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী’ এবং পরবর্তীতে ‘গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সংগীতের পাশাপাশি লেখালেখিতেও তাঁর মুন্সিয়ানা ছিল লক্ষণীয়। ‘চেনা চীন’, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ৯টি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করে।
ফকির আলমগীর কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শ দেশের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 hours আগে

