অর্থকাগজ প্রতিবেদন
গুমের শিকার ব্যক্তির মৃত্যু হলে, লাশ পাওয়া গেলে কিংবা ঘটনার পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। বিকল্প হিসেবে যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণভাবে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং অভিযোগ গঠনের পর ৯০ কার্যদিবসে বিচার শেষ করতে হবে।
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ নামে প্রস্তাবিত বিলে এসব বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ১৩ পৃষ্ঠার বিলটিতে গুমের সংজ্ঞা, অভিযোগ দায়ের, তদন্ত ও বিচার, শাস্তি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়, গোপন আটককেন্দ্র, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার। গুম এসব অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা রাষ্ট্রের অনুমোদন, সমর্থন কিংবা সম্মতিতে কাজ করা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার, আটক, অপহরণ বা অন্যভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাকে গুমের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে শুধু আটকের ঘটনাই যথেষ্ট হবে না। আটকের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করা, তার অবস্থান বা পরিণতি গোপন রাখা এবং এর ফলে তাকে আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হলে সেটি গুমের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে, হাজির করার আগ পর্যন্ত তার অবস্থান গোপন রাখা হলেও সেটিকে গুম হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। তবে আটককালে অন্য কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিচার করা যাবে।
বিলে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ বলা হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপরাধটি চলমান থাকবে। ব্যক্তি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হলে তার মরদেহ বা দেহাবশেষ শনাক্ত করে আইনগত উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্তও অপরাধটির সমাপ্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
বিলের সাধারণ শাস্তির ধারায় বলা হয়েছে, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা যাবে।
গুমের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা তার লাশ পাওয়া গেলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। একই বিধান প্রযোজ্য হবে ঘটনার পাঁচ বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে। এসব ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কিংবা কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাবে।
অন্য কোনও অপরাধে অভিযুক্তের বিচার হয়ে থাকলেও গুমের অভিযোগে নতুন করে মামলা ও বিচার করতে বাধা থাকবে না।
গুমের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ বা নথি নষ্ট, গোপন, বিকৃত কিংবা পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হবে। গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করলেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
গুমের চেষ্টা, আদেশ, নির্দেশ, সহায়তা, প্ররোচনা বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিই প্রযোজ্য হবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

