অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দুই শেয়ার বাজারে দুই চিত্র। দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ছিল সূচকের মিশ্র আচরণ। সাধারণ তথা প্রধান সূচকটি এখানে সামান্য অবনতি ঘটলেও বিশেষায়িত দু’টি সূচকের কমবেশি উন্নতি ঘটে। অন্য দিকে দেশের দ্বিতীয় শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবগুলো সূচকেরই বড় ধরনের অবনতি ঘটে। ২১ আগস্ট সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের দুই পুঁজি বাজার সূচকের চিত্র ছিল এটি। তবে উভয় বারেই অবনতি ঘটে লেনদেনের।
ঢাকা শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ আগস্ট ৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট হারায়। পাঁচ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৪১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ২১ আগস্ট দিনশেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে। দিনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপে ধুঁকতে থাকা সূচকটি বেলা সোয়া ১২টার দিকে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে। এ সময় সূচকটির প্রায় ৪০ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। তবে পরবর্তীতে বিক্রয়চাপ সামলে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক। এক পর্যায়ে সূচকের উন্নতিও ঘটতে দেখা যায়। তবে দিনের সমন্বয়ে সূচকের উন্নতি আর ধরে রাখতে পারেনি বাজারটি। তবে একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৩ দশমিক ২১ ও ২ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে সূচকের যে অবনতি ঘটে আর সামাল দিতে পারেনি বাজারটি। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক ৬৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ০২ ও ৪২ দশমিক ২৭ পয়েন্ট।
সূচকের মিশ্র আচরণ সত্ত্বেও ঢাকা শেয়ার বাজারে লেনদেনের বড় ধরনের অবনতি ঘটে ২১ আগস্ট। ডিএসই এদিন ৭৬৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৮৭ কোটি টাকা কম। ২০ আগস্ট ডিএসইর লেনদেন ছিল ৯৫৩ কোটি টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সকালে ব্যাপক বিক্রয়চাপের মুখে পড়লে গতি হারায় বাজারটি। বিনিয়োগকারীদের আচরণও ছিল সতর্ক। কারণ এর আগে দু’দিন কমবেশি অবনতি ঘটে ডিএসই সূচকের। সবমিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা এক প্রকার ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করে যা লেনদেনকে প্রভাবিত করে। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে ৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা থেকে আট কোটি ১৮ লাখ টাকায় নেমে আসে।
এদিকে টানা তিন দিন সূচকের অবনতি বাজারে কিছুটা মন্দার আবহ তৈরি করেছে। ফলে বরাবরের মতো মন্দায় স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলোতেই বিনিয়োগকারীদের অতিমাত্রায় ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। ২১ আগস্ট দুই বাজার আচরণে এমনটি দেখা যায়। এদিন দুই পুঁজি বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় সবগুলোই ছিল স্বল্প মূলধনের কোম্পানি। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুঁজি বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলে শুরুতে খুব ভালোই ছিল বাজার আচরণ। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর টিকে থাকেনি।
বাজারের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী আচরণের সুযোগে আবারো বাজার নিয়ে কারসাজিতে মেতে উঠেছে একটি চক্র। এক মাসেরও কম সময়ে কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ শতাংশের বেশি। অথচ এসব কোম্পানিগুলোর হাতেগোনা দু’একটি ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অর্থে আর্থিক ও উৎপাদন সক্ষমতাও নেই। যথাসময়ে সাধারণ সভা করা ও লভ্যাংশ দেয়াার সংস্কৃতি মেনে চলে না। কোনো কোনো কোম্পানি নামসর্বস্ব লভ্যাংশ দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উঠে আসে। আবার কোন কোনটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকার পরও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে চলেছে। অথচ একই সময় বাজারের মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি হিসেবে যাদের সুনাম আছে, যেগুলো নিয়মিত ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকে সেগুলো বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সাড়া পাচ্ছে না। এটা বাজারের স্বাভাবিকতাকে বিনষ্ট করছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এদিন ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২৫ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিচ হ্যাচারি। আর ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল যথাক্রমে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, টেকনো ড্রাগস এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
ডিএসই লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে ২১ আগস্ট দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে আইটি খাতের কোম্পানি ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড। সূত্র মতে, এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ শতাংশ বেড়েছে। দরবৃদ্ধির এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা সমতা লেদারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটা স্যালভো কেমিক্যাল ছিল তালিকার তৃতীয় কোম্পানি। এ ছাড়া ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, কে অ্যান্ড কিউ, সোনালি পেপার, বাংলাদেশ অটোকারস, জিকিউ বলপেন, রহিম টেক্সটাইল এবং রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড।
২১ আগস্ট লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড। আর তৃতীয় স্থানে থাকা বীমা খাতের কোম্পানি সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের দর ৫ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে। ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো র্ছিল প্রাইম ফাইন্যান্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং এবং তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/২২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

