তারেক আবেদীন ●
ব্যবসায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চতুর্থ প্রজন্মের ৭টি দেশি জীবন বীমা কোম্পানিকে ডেকে ৮ নির্দেশ দিয়েছে। রাজধানীর দিলকুশাস্থ আইডিআর ‘র কার্যালয়ে ২ মে থেকে ২২ মে মোট ১৫ কর্ম দিবসে অনুষ্ঠিত কোস্পানিগুলোর সঙ্গে শুনানী শেষে এ আদেশ দেয় বলে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান অর্থকাগজকে জানিয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো – প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, যমুনা লাইফ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
জানা গেছে, আইডিআরএ, উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদন্তে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম দেখতে পায়। এরপর কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের শুনানীর জন্য ডেকে নেওয়া হয়। ১৫ দিনব্যাপী নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের শুনানীর পর সুনিদিষ্ট নির্দেশগুলো দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশগুলো হচ্ছে - ১. দ্বিতীয় বর্ষে বীমা পরিপত্র নবায়নের হার ৭০ শতাংশ উন্নীত করা, ২. তামাদি বীমা পরিপত্রের সংখ্যা বা হার কমানো ৩. গাড়ি সংক্রান্ত ব্যয় হ্রাস, ৪. কমিশন বাদে ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো, ৫. ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে জীবন তহবিল বৃদ্ধি করা, ৬. মোট প্রিমিয়াম আয় বাড়ানো, ৭. দ্রুত বীমা পরিশোধে এর হার বাড়ানো এবং ৮. ফিরতি বিনিয়োগের হার বিদ্যমান বাজার সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান, সদস্যগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান হিসাব কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তা শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন।
আইডিআরএ’র একাধিক সূত্র জানায়, ১৫টি বীমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বেশ নাজুক। নানা অনিয়ম, বীমা পরিশোধে ব্যর্থতা এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় ইত্যাদি কারণে কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে পথ চলতে পারছে না। সাধারণ মানুষের দাবী ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতায় সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এসব বেশিদিন চলতে দেয়া হবে না বলে বীমা খাতে ইমেজ ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে সরকারের উচ্চ মহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও জানা গেছে, নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইন ও বিধিমালা মেনে বীমা ব্যবসায় পরিচালনা না করলে একাধিক কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। ১টি জীবন বীমা কোম্পানির ব্যবসা এরিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে নাজুক এমন কোম্পানির একটি বড় তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। ●
অকা/বীখা/সকাল, ২৪ মে, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে
