অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা শূন্যে নেমে আসায় বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা ফিরেছে, কমেছে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম, আর ত্বরান্বিত হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় কমার পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলেও স্থিতিশীলতা এসেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন কেবল একটি পরিচালনাগত সাফল্য নয়—এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতার একটি শক্তিশালী বার্তা। সমন্বিত পরিকল্পনা, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ফলেই এই অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর। পরবর্তী তিন মাস—অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। তবে বছরের শুরুতে, বিশেষ করে জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত কর্মবিরতি ও কিছু অপারেশনাল জটিলতার কারণে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং অপেক্ষার সময় কিছুটা বেড়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আবারও এই কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় ফিরে আসে বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, ঈদে বাড়তি চাপ থাকা সত্ত্বেও বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়। ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে পৌঁছালেও দ্রুত পদক্ষেপ, নিবিড় নজরদারি এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে তা আবার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে জাহাজগুলো দ্রুত পণ্য খালাস ও বোঝাই করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে।
এই পরিস্থিতির ফলে শিপিং কোম্পানিগুলোর সময় ও পরিচালন ব্যয় কমছে। একই সঙ্গে আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য হাতে পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে সক্ষম হচ্ছেন। লজিস্টিকস ব্যয় কমে আসায় বাজারে পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্যও স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মূলত রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে ঈদের ছুটিতেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। এর ফলে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়ে বন্দর কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ●
অকা/প্র/ই/সকাল/৩০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 19 hours আগে

