অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৫ ডলারের কাছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের সম্ভাবনা থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে সৃষ্টি হওয়া সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যবৃদ্ধি: গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.০৬ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪.৯৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.০২ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৬০.৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ: পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক জন ইভানস রয়টার্সকে জানান, চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তেলের দামে বর্তমানে একটি ‘সুরক্ষামূলক প্রিমিয়াম’ (Protective Premium) যুক্ত হচ্ছে। মূলত ইরানের তেল রফতানি বন্ধের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরান সংকট ও মার্কিন হুঁশিয়ারি: ওপেকভুক্ত শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা বাজারকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরানে অস্থিরতায় ব্যাপক প্রাণহানি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পাশাপাশি, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া যে কোনো দেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে। ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর এই ঘোষণার প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা: আইএনজি ব্যাংকের কৌশলবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতার মাঝে নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ওয়াশিংটন চীনের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করবে কি না, তা নিয়ে বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক বাজার।

অকা/প্র/ই/সকাল/১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 22 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version