অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ কর্তৃক শেয়ারকারসাজিকীদের বিচার চাওয়ার প্রেক্ষিতে পরপর দুই দিন বড় পতন হয়েছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে। কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা ছাড়াই ঢালাওভাবে পতন হচ্ছে শেয়ারবাজারে। এতে করে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারদরও কমছে। কিন্তু এই কম দরে শেয়ারগুলো ক্রয় করতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। কারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে এখন তারল্য নেই। আগে যে বিনিয়োগ করেছে, বাজারের দীর্ঘ পতনের ফলে সেই বিনিয়োগই আটকে গেছে তাদের।
যার কারণে বিনিয়োগকারীরা সেই বিনিয়োগ থেকে চাইলেই বের হতে পারছে না। আর অন্য দিকে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারদর কমে নাগালের মধ্যে অবস্থান করছে। কিন্তু হাতে তারল্য না থাকায় সেই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ হাত ছাড়া হচ্ছে। যার কারণে আফসোস করছে বিনিয়োগকারীরা। যদিও তারা বুঝতে পারছেন যে, বাজার এই রকম থাকবে না। খুব তাড়াতাড়িই শেয়ারদর বেড়ে যাবে।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ভালো কোম্পানির শেয়ারে এখন বিনিয়োগ করার উপযুক্ত সময়। এই সময়ে বিনিয়োগ করতে পারলে ভালোভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। কিন্তু এখন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর হাতে অর্থ নেই, যার কারণে নতুন করে তৈরী হওয়া এই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই বিনিয়োগকারীদের আফসোস হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট লাঘবে সরকারের নতুন নির্দেশনা ও শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দাবি—এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারের নানা গুজব সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও দরপতন হতে পারে এই ভয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়েছে, এতে করে গত দুই দিন ধরে বাজার খারাপ যাচ্ছে। কিন্তু দুই একদিনের মধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। যে কারণে বাজার খারাপ হয়েছে এটা শুধুমাত্র আতঙ্ক। আতঙ্ক কেটে দুই একদিনের মধ্যেই বাজার ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।
#
অকা/পুঁবা/দুপুর, ২০ জুলাই, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

