অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
এবারের দীর্ঘ ছুটিতে অধিকাংশ এটিএম বুথই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশির ভাগ ব্যাংক নিজ গ্রাহক ছাড়া অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বুথ থেকে টাকা তোলার সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক ব্যাংক নিজেদের গ্রাহকদের জন্যও টাকা তোলার সীমা কমিয়ে দিয়েছে।
সারা দেশে বর্তমানে অধিকাংশ এটিএম বুথের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ অনেক বুথেই পর্যাপ্ত টাকা নেই। যদিও প্রতি বছর ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেয়, ব্যাংক ছুটির মধ্যে গ্রাহকের নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে এটিএম বুথ সার্বণিক সচল রাখতে হবে। যাতে গ্রাহকরা টাকার সংকটে না পড়েন। তবে বাস্তবতা হলো।
এবার ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি ১০ দিন। দেশের সব ব্যাংকও বন্ধ রয়েছে। ফলে টাকা লেনদেনের বিকল্প মাধ্যম হচ্ছে এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও এমএফএস প্রভৃতি সেবা। তবে ঈদের ছুটিতে শুরু থেকেই এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। বর্তমানে এ পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গেছে।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের বাসিন্দা আবুল বাশার ও সালেহা বেগম কানন দম্পতি জানান, তারা একাধিক বুথে গিয়ে চেষ্টা করে ১ টাকাও তুলতে পারেননি। ঈদের সময় নগদ টাকার দরকার হয় বেশি। বাজার, যাতায়াত, সবকিছুতেই নগদ লাগে। চার-পাঁচটি বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে না পারাটা খুব হতাশাজনক।
শুধু রাজধানী নয়, জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা এটিএম বুথে গিয়ে ফিরে আসছেন খালি হাতে। কোথাও সকালে টাকা রাখা হলেও দুপুর বা বিকালেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় একমাত্র বুথটিতে টাকা শেষ হওয়ার পর সেটি টানা দুদিন বন্ধ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বিকাশ বা নগদের মতো এমএফএস ব্যবহারে ঝুঁকছেন। তবে এসব মাধ্যম ব্যবহারে অতিরিক্ত চার্জ থাকায় অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ী আমির হোসেন রাজু ও আসমা আক্তারও ােভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের ছুটির শুরু থেকে টাকা নিয়ে গ্রাহকের ভোগান্তির শেষ নেই। এসব দেখার কেউ নেই। কোরবানির ঈদের পশুর কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব কাজে নগদ টাকার দরকার হয়। অথচ বর্তমানে শহরে অধিকাংশ বুথই বন্ধ।’
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এটিএম বুথ দুইভাবে পরিচালিত হয়। প্রথমত, যেসব এটিএম বুথ ব্যাংক শাখাসংলগ্ন, সেসব বুথ পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট শাখার তত্ত্বাবধানে। ঈদের ছুটিতে ৫ জুন ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ ব্যাংকের শাখাসংলগ্ন এটিএম বুথে নতুন করে আর টাকা জমা করা সম্ভব হয়নি। কারণ কর্মকর্তাদের সবাই ছুটিতে চলে গেছেন। তবে কিছু ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগে শুধু এটিএম বুথে টাকা জমার জন্য শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রেখেছিল।
এছাড়া যেসব ব্যাংকের এটিএম বুথ শাখা থেকে দূরে স্বতন্ত্র স্থানে রয়েছে, সেসব বুথ পরিচালিত হয় বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এসব প্রতিষ্ঠান বুথে টাকা জমার দায়িত্ব পালন করে থাকে। এবার কোরবানির ঈদের ছুটির পর অনেকেই কোরবানির পশু কিনেছেন। ফলে সব ধরনের এটিএম বুথে অন্য সময়ের চেয়ে টাকা তোলার চাপ বেশি ছিল।
ব্যাংক কর্মকর্তারা আরো জানান, বর্তমানে প্রতিটি ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানতে পারে নিজ ব্যাংকের কোন এটিএম চালু ও কোনটি বন্ধ। তবে দীর্ঘ ছুটিতে জনবল না থাকায় ব্যাংকগুলো তথ্য জানলেও নিষ্ক্রিয় এটিএম সার্বণিক চালু রাখার ব্যবস্থা করতে পারেনি। আবার সাধারণত একটি এটিএম বুথে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা জমা রাখা যায়। ঈদের সময় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। শহরের বুথগুলোতে কাছাকাছি শাখা থেকে টাকা সরবরাহ করা গেলেও দূরবর্তী বুথগুলোতে তাৎণিক টাকা জোগান দিতে সমস্যা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যাতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখে সে বিষয়ে ছুটি শুরুর আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কেন সে নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। ছুটি থাকায় এখনই এ বিষয়ে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখবে। ●
অকা/আখা/ফর/বিকাল/১২ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

