অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত শিল্পমালিকদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিবৃতিতে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কারখানাগুলোতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব বোনাস এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় শিল্পখাতের তারল্য সংকট সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, আটকে থাকা সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবিতে সংগঠনের বর্তমান বোর্ড সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে। এসব আলোচনার ফলেই দ্রুততম সময়ে তহবিল অনুমোদন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির প্রথম ধাপে ১,৫০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে মোট ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৫০০ কোটি টাকা। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছাবে।

সংগঠনটি তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া বিলম্বিত না হয়।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং রফতানি আদেশ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সহায়তা শিল্পের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নগদ প্রবাহ সচল থাকলে কারখানাগুলো উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা সহজ হবে।

সামগ্রিকভাবে, এই তহবিল ছাড়কে অনেকেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা অন্তত স্বল্পমেয়াদে শিল্পখাতের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

অকা/প্র/ই/দুপুর/৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version