অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ ও বাণিজ্যিক গতিশীলতা বৃদ্ধি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো বাড়তি রেমিট্যান্স এবং প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতিতে সাময়িক কর্মসংস্থান ও অর্থ সরবরাহে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, নির্বাচনি খরচের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত অর্থ ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় জীবনমান ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোকে চাঙ্গা করছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই ব্যয়ের বড় অংশই অনুৎপাদনশীল খাতে হওয়ায় বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৮.৪৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা আড়াই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কমিশন প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিভাবে এবারের নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, পোস্টার, ব্যানার এবং কন্টেন্ট তৈরির কাজে বিপুল সংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিশেষ করে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে এই ব্যয় ও অর্থনৈতিক লেনদেন আরও গতিশীল হবে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসলে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে শিল্প খাত ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও নির্বাচনের প্রভাব দৃশ্যমান। জানুয়ারির প্রথম ১১ দিনেই দেশে ১৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮১ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে, যার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে। যদিও নির্বাচনি ব্যয় ও আসন্ন রমজানের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, তবুও সার্বিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে এই সময়টি একটি বিশেষ উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

অকা/প্র/ই/বিকাল/১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 weeks আগে

Leave A Reply

Exit mobile version