অর্থকাগজ প্রতিবেদন

টানা কয়েক কার্যদিবস বাংলাদেশর পুঁজি বাজারে সূচকের পতন চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে প্রজ্ঞাপন, নেগেটিভ ইক্যুইটি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সমন্বয় এবং ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধে। এসব কারণে পুঁজি বাজারে ধারালো পতন হয়েছে। এর সাথে সুযোগ সন্ধানী গোষ্ঠী যুদ্ধের ভীতিকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের পতন ঘটিয়ে কম দামে শেয়ার কিনে নিতে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। সেই গুজবের ফাঁদে পা দিচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। অযৌক্তিক কারণে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ডিএসই সূত্র মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর খবরে ওই দিন ডিএসইএক্স সূচকটি কমেছিল ১০৯ পয়েন্ট। যুদ্ধের খবরে বিশ্বের বড় সব পুঁজি বাজারেও বড় ধরনের দরপতন ঘটে। বিশ্ব পুঁজি বাজার বড় ধরনের পতনের ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে, কিন্তু যুদ্ধের রেশে বড় পতনের সেই ধাক্কা কাটাতে পারেনি বাংলাদেশের পুঁজি বাজার। ফলে সূচকের পতন দিয়ে চলছেই।

বিএসইসি মনে করে, লেনদেনের শুরুতে কোনো কোনো ব্রোকারেজ হাউজের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাপক বিক্রি প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন পরিস্থিতি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। হঠাৎ করেই বিনিয়োগকারীরা কেন আতঙ্কিত হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছেন, তাও জানতে চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বড় পতনের কারণ হিসেবে অনেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এবং কিছু ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণাত্মক ইকুইটির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে চাইছেন। তবে ইতিমধ্যেই বিশ্ব পুঁজি বাজার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধকল সামলে উঠেছে, যার নজির সম্প্রতি দেখা গেছে। আর নেগেটিভ ইকুইটির যে বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটিও অনেক পুরনো। এক যুগ ধরেই নেগেটিভ ইকুইটি একটি সমস্যা হিসেবে থাকলেও এটির সমন্বয়ে প্রতি বছরই সময় বৃদ্ধি করছে বিএসইসি। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের নেগেটিভ ইকুইটি সমস্যা রয়েছে, বাজার পতনে শক্ত ভূমিকা রাখার সামর্থ্য নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি বলেন, যে সব কারণে পুঁজি বাজারে পতন হচ্ছে, এগুলো কোন সমস্যা না। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ সমাধানের পথে। ফলে বিশ্ব পুঁজি বাজার এখন আবার উর্ধ্বমুখী। কিন্তু আমাদের দেশে তা উল্টো।

তিনি বলেন, নেগেটিভ ইক্যুইটি নিয়ে একটি আলোচনা চলছে। প্রায় একযুগ ধরে এটি নিয়ে আমরা চলছি। এর সমাধান আমরা সবাই চাই। এর সমাধানের মাধ্যমে যাতে পুঁজিবাজার আরও ভালো হয়, সেই চিন্তা কমিশন করছে। এটি বাজারের জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে, তার তেমন প্রভাব বাজারে নেই। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে বড় কোন বিনিয়োগ নেই। ফলে সার্বিক দিকে বিবেচনা করে মনে হয় পুঁজি বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।

#

অকা/পুবা/ দুপুর, ৬ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version