রুনা হোসেন> 

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের তথ্য যেমন ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনি বাড়ছে ভুল ধারণাও। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্যাটারি কিংবা সাইবার নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে এমন অনেক ধারণা প্রচলিত, যেগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে খুব একটা মিল নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ভুল ধারণা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারেও বাধা সৃষ্টি করে।

নিচে প্রযুক্তি নিয়ে বহুল প্রচলিত ২৪টি ভুল ধারণা তুলে ধরা হলো—

১. ম্যাক কম্পিউটারে ভাইরাস হয় না
এটি পুরোপুরি ভুল। ম্যাকে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার আক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও একেবারে নেই—এমন নয়।

২. ফোন সারারাত চার্জে রাখলে ব্যাটারি নষ্ট হয়
আধুনিক স্মার্টফোনে স্মার্ট চার্জিং প্রযুক্তি থাকায় ব্যাটারি পূর্ণ হলে চার্জ নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত তাপে থাকলে ব্যাটারির আয়ু কমতে পারে।

৩. ইনকগনিটো মোডে থাকলে কেউ আপনার কার্যক্রম দেখতে পারে না
ইনকগনিটো মোড কেবল ব্রাউজিং হিস্ট্রি সংরক্ষণ করে না। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, কর্মস্থল বা ওয়েবসাইট এখনও আপনার কার্যক্রম দেখতে পারে।

৪. বেশি মেগাপিক্সেল মানেই ভালো ক্যামেরা
ছবির মান নির্ভর করে সেন্সর, লেন্স, সফটওয়্যার প্রসেসিং ও আলোসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

৫. সব পাবলিক ওয়াই-ফাই নিরাপদ
অনিরাপদ পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে।

৬. ফোনে অ্যাপ বন্ধ করলে সবসময় ব্যাটারি সাশ্রয় হয়
বারবার অ্যাপ চালু ও বন্ধ করলে অনেক সময় উল্টো বেশি শক্তি খরচ হয়।

৭. বেশি দামের কেবল সবসময় দ্রুত চার্জ দেয়
দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য চার্জার, কেবল ও ফোন—তিনটিই উপযুক্ত মানের হতে হবে।

৮. এআই সবসময় নির্ভুল তথ্য দেয়
এআই অনেক সময় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও তৈরি করতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা জরুরি।

৯. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড একবার বানালেই যথেষ্ট
একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। নিয়মিত পরিবর্তন ও দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA) ব্যবহার করা উচিত।

১০. ফোনে অ্যান্টিভাইরাস থাকলেই শতভাগ নিরাপদ
অ্যান্টিভাইরাস সহায়ক হলেও নিরাপত্তার একমাত্র সমাধান নয়।

১১. ব্লুটুথ সবসময় হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে
ব্যবহার না করলে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা ভালো, তবে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক কম।

১২. সব সফটওয়্যার আপডেট অপ্রয়োজনীয়
আপডেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা দুর্বলতা দূর করা হয়। তাই নিয়মিত আপডেট করা উচিত।

১৩. ফোনের র‍্যাম খালি রাখলেই সেটি দ্রুত চলে
অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস স্বয়ংক্রিয়ভাবে র‍্যাম ব্যবস্থাপনা করে।

১৪. ইন্টারনেট থেকে কিছু ডিলিট করলে তা পুরোপুরি মুছে যায়
একবার অনলাইনে প্রকাশিত তথ্য অনেক সময় বিভিন্ন সার্ভার বা ব্যাকআপে থেকে যেতে পারে।

১৫. চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোন চার্জ দেওয়া উচিত নয়
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজন নেই। বরং ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ রাখা ভালো।

১৬. সব ফ্রি অ্যাপ নিরাপদ
অনেক ফ্রি অ্যাপ অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করে বা ক্ষতিকর কোড বহন করতে পারে।

১৭. স্মার্ট টিভি হ্যাক হয় না
ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো ডিভাইস সাইবার হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

১৮. ক্লাউডে রাখা তথ্য কখনো হারায় না
ক্লাউড নিরাপদ হলেও ব্যাকআপ রাখা সবসময়ই ভালো অভ্যাস।

১৯. ৫জি প্রযুক্তি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়
এ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য গবেষণায় এ ধরনের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০. বেশি সিগন্যাল মানেই বেশি ইন্টারনেট গতি
নেটওয়ার্কের চাপ, সার্ভারের অবস্থা ও ব্যান্ডউইথও গতিকে প্রভাবিত করে।

২১. স্মার্টফোন রিস্টার্ট করার প্রয়োজন নেই
মাঝেমধ্যে ফোন রিস্টার্ট করলে কর্মক্ষমতা উন্নত হতে পারে।

২২. কুকিজ মানেই ভাইরাস
কুকিজ মূলত ওয়েবসাইটের তথ্য সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। এগুলো নিজে ভাইরাস নয়।

২৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা সব তথ্য ব্যক্তিগত থাকে
প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক না থাকলে ব্যক্তিগত তথ্য সহজেই অন্যদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

২৪. প্রযুক্তি সব সমস্যার সমাধান করতে পারে
প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করে, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত, দক্ষতা ও মানবিক বিবেচনার বিকল্প নয়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অনলাইনে পাওয়া যেকোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহারে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version