অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে সূচকের উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। ২৫ আগস্ট টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সূচকের উন্নতি ধরে রেখেছে দেশের উভয় পুঁজি বাজার। ২৪ আগস্ট বাজারেগুলোতে সূচকের সীমিত উন্নতি ঘটলেও ২৫ আগস্ট দুই বাজারেই সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটে। তবে এ সময় দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টকে লেনদেনের বড় ধরনের উন্নতি ঘটলেও ঢাকায় বসেছে লেনদেন। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক আচরণ হিসেবেই দেখছেন। কারণ বরাবরই সূচকের বড় ধরনের উন্নতির পরপরই বাজারগুলো সংশোধনের শিকার হয়।

দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ আগস্ট ৬৬ দশমিক ২৩ পয়েন্ট উন্নতিম ধরে রাখে। ৫ হাজার ৩৮৯ দশমিক ১৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি ২৫ আগস্ট দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪৫৫ দশমিক ৪০ পয়েন্টে। ২৫ আগস্ট লেনদেনের শুরুতেই সূচকের সাবলীল উন্নতি ঘটতে থাকে। লেনদেন শুরুর আধঘণ্টারও কম সময়ে সূচকটি পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪৪৮ পয়েন্টে। এ সময় সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৬০ পয়েন্টের বেশি। লেনদেনের এ পর্যায়ে সাময়িক বিক্রয়চাপ তৈরি হলে দুপুর ১২টার দিকে সূচকটি নেমে আসে ৫ হাজার ৪২০ পয়েন্টে। তবে এখান থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে সূচকটি। বেলা ২টার পর ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে। তবে দিনের সমন্বয়শেষে ৫ হাজার ৫৫৫ দশমিক ৪০ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি। একই সময় ডিএসইর বিশেষায়িত দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ২৭ দশমিক ১৬ ও ৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সব ক’টি সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক ১৭০ দশমিক ২২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ সূচকটি ১২২ দশমিক ০১ ও সিএসসিএক্স সূচক ১১১ দশমিক ০২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

সূচকের উন্নতি ঘটলেও ২৫ আগস্ট ডিএসইতে লেনদেনের কিছুটা অবনতি ঘটে। এ দিন ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে বাজারটি যা আগের দিন অপেক্ষা ২৫ কোটি টাকা কম। ২৪ আগস্ট বাজারটির লেনদেন ছিল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে লেনদেনে বড় ধরনের উন্নতি ঘটেছে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে। ২৫ আগস্ট সিএসইর লেনদেন পৌঁছে যায় ৫০ কোটি টাকায় যা আগের দিন ছিল ১২ কোটি টাকা।

২৫ আগস্ট দুই পুঁজি বাজারেই স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোকে পেছনে ফেলে মূল্যবৃদ্ধিতে বীমা খাতের প্রাধান্য দেখা যায়। এ খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানি বাদে বাকিগুলোর কমবেশি মূল্য বেড়েছে। আবার ঢাকা শেয়ার বাজারে কমপক্ষে ছয়টি কোম্পানির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দরে বেচাকেনা হয়েছে। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে কমপক্ষে আটটি কোম্পানি উঠে আসে দিনের মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ অবস্থানে। মধ্যম পর্যায়ের মূলধন সমৃদ্ধ এ খাতটির বেশির ভাগ কোম্পানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধিই ২৫ আগস্ট দুই পুঁজি বাজার সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতটি বিভিন্ন সমস্যাকবলিত হলেও দীর্ঘদিনের দরপতনের ফলে একটি গ্রহণযোগ্য মূল্যস্তরে রয়েছে কোম্পানিগুলোর শেয়ার। মূল্য আয় অনুপাতও বিনিয়োগের পক্ষে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাড়ছে খাতটি।

এ দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতের বেশ কয়েকটি কোস্পানি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই দিনের সর্বনিম্ন দরে শেয়ার বেচাকেনা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই মূলধন হারাচ্ছেন এ খাাতের বিনিয়োগকারীরা। ২৫ আগস্ট দুই পুঁজি বাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির আটটিই ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের। ২৪ আগস্ট ও এ খাতের চিত্র ছিল একই। ফলে বড় ধরনের বিনিয়োগ ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে খাতটিতে।

২৫ আগস্ট এ খাতের বিনিয়োগকারীদের কয়েকজন নয়া দিগন্তকে বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগে তারা ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে আসছিলেন। কারণ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে যে সংস্কারের চেষ্টা করছেন তা বাস্তবায়িত হলে খাতটি ঘুরে দাঁড়াবে। এ ধারণা থেকে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যস্তরে থাকা এ খাতেই তারা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু এখন পুরো মূলধনই সঙ্কটের মুখে। সরকার চাইলে সমস্যা কবলিত ব্যাংকগুলো একীভূত করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তেমনি সমস্যাকবলিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েও এ ধরনের কিছু করতে পারে। তাতে এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পুঁজি বাজারে এ খাতের বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিও কমে আসত। বিষয়টি নিয়ে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ডিএসইর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২৫ আগস্ট লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে সিটি ব্যাংক। ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কোম্পানিটি ১ কোটি ৫৮ লাখ ৩১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৫ আগস্ট। ৩২ কোটি ৪ লাখ টাকায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মালেক স্পিনিং, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, বিচ হ্যাচারি, ওরিয়ন ইনফিউশন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিভিও পেট্রোসিনথেটিকস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বীমা খাতের কোম্পানি রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স। ২৫ আগস্ট ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল একই খাতের সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স। মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, আমান ফিড, মীর আকতার ও প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স।

ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর পতনের শীর্ষে উঠে এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি। এদিন কোম্পানির শেয়ার দর ১০ শতাংশ কমেছে। ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ দরপতন ঘটে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল একই খাতের ফাস ফিন্যান্সের। তালিকায় উঠে আসা শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, জিএসপি ফাইন্যান্স, নুরানী ডাইং ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও নিউ লাইন কোদিংস। ●

অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/২৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version