অর্থকাগজ প্রতিবেদন

বিভিন্ন কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজি বাজার ওঠানামা করে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রেক্ষাপট, জ্বালানি তেলের দাম উঠানাম বা যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার হ্রাস/বৃদ্ধি এর মধ্যে অন্যতম কারণ। তবে বাংলাদেশের পুঁজি বাজার কোনো ব্যাকরণ মেনে চলে না। কারণ ছাড়াই হঠাৎ সূচকের পতন দেখা যায়। কখনওবা চলে টানা পতন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল এক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। এমনটি দেখা গেছে বিদায়ী বছরে।

২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজি বাজারের মধ্যে সবচেয়ে মন্দায় কেটেছে বাংলাদেশের পুঁজি বাজার। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সূচকগুলোর এ সময়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও বাংলাদেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সূচকে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে বছরজুড়েই। এক তরফা নির্বাচন বা হাসিনার পতন এ সূচকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেনি। অন্যদিকে গত বছর বৈশ্বিক পুঁজি বাজারগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে করাচি-১০০ সূচক।

ইবিএল সিকিউরিটিজের ২০২৪ সালে বার্ষিক পর্যবেক্ষণে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে। এতে দেখা যায়, বিদায়ী ২০২৪ সালে ইউরোপের পুঁজি বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সূচকের সবগুলো ইতিবাচক অবস্থা ছিল। যুক্তরাজ্যের পুঁজি বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ২০২৪ সালের মতই গত তিন বছরের চিত্র বিশ্লেষণ করলে সেখানেও বাজারগুলো সূচকের পরিবর্তন ছিল ইতিবাচক। তথ্যমতে, ইউরোপের বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বিদায়ী বছরে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯৭০ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে। আর তিন বছরের ব্যবধানে সূচকটি বেড়েছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সূচক বিদায়ী বছরে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৯৯২ দশমিক ২১ পয়েন্ট। সূচকটি তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।

অন্যদিকে নাসডাক কম্পোজিট বিদায়ী বছরে ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭২২ দশমিক ৩ পয়েন্টে। সূচকটি তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধান পুঁজি বাজার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জভিত্তিক এফটিএসই ১০০ সূচক ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১২৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। সূচকটি গত তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

এদিকে বিদায়ী বছরে এশিয়ার পুঁজি বাজারে ছিল মিশ্র প্রবণতা। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পকিস্তান, শ্রীলংকা ও ভিয়েতনামের পুঁজি বাজারে সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়ার পুঁজি বাজারে সূচক হ্রাস পেয়েছে। তবে ফিলিপাইনের পুঁজি বাজারে সূচক সামান্য বেড়েছে। তথ্যমতে, চীনের সাংহাই সূচক এক বছরের ব্যবধানে ১৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট। সূচকটি তিন বছরের ব্যবধানে হ্রাস পেয়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্য বাজারগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার আইডিএক্স কম্পোজিট এক বছরের ব্যবাধানে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৪ পয়েন্টে। সূচকটি তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। ফিলিপাইনের পিএসইআই কম্পোজিট বিদায়ী বছরে এক দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫২৮ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে। তবে তিন বছরের ব্যবধানে সূচকটি হ্রাস পেয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

ভিয়েতনামের ভিএন-৩০ সূচক বিদায়ী বছরে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে। তবে তিন বছরের ব্যবাধানে সূচকটি হ্রাস পেয়েছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচক বিদায়ী বছরে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ১৮২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। আর তিন বছরের ব্যবাধানে সূচকটি বেড়েছে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। পাকিস্তানের করাচি ১০০ সূচক ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট। আর সূচকটি তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৫৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একইভাবে শ্রীলংকার সিএসই সূচক ৪৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮২৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট। আর সূচকটি তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বিদায়ী বছরে কমেছে ১৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর তিন বছরের ব্যবধানে কমেছে ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ। বর্তমানে সূচকটি রয়েছে ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্টে।
অকা/পুঁবা/ই/ সকাল, ১ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version