অর্থকাগজ ডেস্ক
এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া আর্থিক বছরে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ ২০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে [৮১]। গত বছর যেখানে লোকসান ছিল প্রায় ১০,৮৬৪ কোটি টাকা, এবার তা প্রায় দ্বিগুণ হতে চলেছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিপুল লোকসানের পেছনে বেশ কিছু বড় কারণ রয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও যুদ্ধ পরিস্থিতি। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া যুদ্ধের কারণে আকাশপথ ব্যবহারেও নানা বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে। অন্যান্য কারণগুলো হলো:
পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ: পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ থাকায় ইউরোপ ও আমেরিকার ফ্লাইটে অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি দুই-ই বেশি খরচ হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা।
ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২০২৫ সালের জুন মাসে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী একটি ড্রিমলাইনার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনার পর যাত্রী ক্ষতিপূরণ ও আইনি প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের খরচ হচ্ছে।
সংস্থা একীভূত করার খরচ: ভিস্তারা ও এয়ার এশিয়া ইন্ডিয়াকে এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে মেলানোর প্রক্রিয়া বা ইন্টিগ্রেশনেও অনেক টাকা ব্যয় হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব পরিবর্তন আর্থিক সংকটের এই সময়ে সংস্থাটির সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আগে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৭ সালের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া লাভে ফিরবে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলে যেতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের প্রধান অংশীদার টাটা গ্রুপ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ বা আর্থিক সহায়তা চাইছে। তবে এর মধ্যেও আশার কথা হলো, সংস্থাটি ৫৭০টি নতুন আধুনিক বিমান কেনার অর্ডার দিয়ে রেখেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমিয়ে লাভ ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

