রুনা হোসেন> 

যুদ্ধ, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা বাড়লেও নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এআই খাতে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা থেকে রক্ষা করছে এবং আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত বছর এ হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাবে বলে সংস্থাটি আশা করছে।

আইএমএফের মতে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চাপ পড়ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা অনেক দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। তবুও বিশ্ব অর্থনীতি আশঙ্কার তুলনায় বেশি স্থিতিশীল রয়েছে, যার অন্যতম কারণ প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বিনিয়োগ। চলতি বছর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা ও মাইক্রোসফট এআই অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং উন্নত চিপ প্রযুক্তিতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

এই বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায়। এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানিকারক দেশগুলো প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টরের শক্তিশালী বৈশ্বিক চাহিদার কারণে চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। এটি গত এপ্রিল মাসে দেওয়া সংস্থাটির পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি খাতের নতুন বিপ্লব নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের বিকাশ, উন্নত চিপের চাহিদা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের সম্প্রসারণ বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন গতি দিচ্ছে।

তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হলেও এআইকে ঘিরে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আগামী কয়েক বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং মন্দার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version