চৌধুরী মো. শাহেদ

বাজার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় বীমার প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আইডিআরএ ইনস্যুরটেক কোম্পানি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দেশের বীমা কোম্পানিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এ তালিকাভুক্ত এ ধরনের কোম্পানির সংখ্যা ৭টি। আরও সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আগ্রহী ৫টি কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল ২৮ জানুয়ারি আইডিআরএ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম রাজধানীর দিলকুশাস্থ কার‌্যালয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে আইডিআরএ‘র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত কোম্পানির মধ্যে প্রায় সকলের টেলিমেডিসিন পদ্ধতির অভিজ্ঞতা বিদ্যমান। টেলিমেডিসিন পদ্ধতি হলো টেলিযোগাযোগ অর্থাৎ মোবাইল ফোন বা ভিডিও সম্মেলনের সুবিধা ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সেবার দূরচিকিৎসা। বৈঠকে কোম্পানিগুলোকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বীমা শিল্পের জন্য গ্রাহকমুখি হওয়া, একটি নিরাপদ ও সংরক্ষিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বীমায় অন্তর্ভুক্তি যাতে করে বীমা খাতে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায় সে ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর ফিনটেক এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ এক বৈঠকে মিলিত হয়। বেসিস ইনস্যুরটেক কোম্পানিগুলির জন্য একটি খসড়া নির্দেশিকা উপস্থাপন করে এ সময়। বৈঠকে তখন বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বীমা খাতের অগ্রগতির জন্য ইনস্যুরটেক কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সুষ্ঠভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ইনস্যুরটেক কোম্পানিগুলোর একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির জন্য আইডিআরএকে  অনুরোধ জানান। 

বিয়য়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বীমা খাতকে আধুনিকায়নের জন্য নিয়োজিত টেকনোলজিকাল কোম্পানীগুলোকে একটি অবকাঠামোয় আনার উদ্দেশ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী কাজ শুরু করেন। সে ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট তথ্য প্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বীমা শিল্পে নতুন পরিকল্পনা ও সেবা উদ্ভাবনের মাধ্যমে গ্রাহক সুবিধা সহজীকরণ ও স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ইনস্যুরটেক/স্টার্ট-অ্যাপ প্রতিষ্ঠানের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স গাইডলাইন্স-২০২৩ জারি করে আইডিআরএ।

আইডিআরএ রেগুলেটরি স্যান্ডবক্সের সংজ্ঞা দেয় এভাবে, রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যাতে নতুন ব্যবসায়িক ধারা সৃষ্টির জন্য তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন বীমা পরিকল্প বা সেবা উদ্ভাবনের জন্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। নীতিমালায় আইডিআরএ বলে, বীমা খাতের সুশৃঙ্খল বিকাশ এবং গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণে সহায়তা করবে ইনস্যুরটেক।

আইডিআরএ সে সময় জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইনস্যুরটেক সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও বাংলাদেশ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক বলে, বীমা খাতের বিকাশ এবং বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতকে বীমা সেবায় সম্পৃক্ত করতেই এ নীতিমালা জারি করা হলো।

ইনস্যুরটেক কোম্পানিকে সেবা দেওয়ার অনুমোদন পেতে আইডিআরএর কাছে আবেদন করতে হবে। রেগুলেটরি স্যান্ডবক্সে আবেদনের শ্রেণি বিভাগের কথা বলা হয় বীমা পরিকল্প উদ্ভাবন, বীমা পণ্য বিপণন (ই-কমার্সসহ), বীমা দাবি নিষ্পত্তি, অবলিখন ও আইডিআরএ নির্ধারিত অন্য যেকোনো ধরনের বীমা সেবা।

আইডিআরএ থেকে বলা হয় অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব মানদণ্ড বিবেচনায় নেবে সেগুলো হচ্ছে আইডিআরএর সন্তুষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো উদ্ভাবন বীমা শিল্পের জন্য উপকারী হওয়া, একটি নিরাপদ ও সংরক্ষিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বীমায় অন্তর্ভুক্তি, বীমা খাতে গ্রাহক সংখ্যা (পেনিট্রেশন) বৃদ্ধি ইত্যাদি।

নীতিমালায় বলা হয়, আইডিআরএর অনুমোদন ছাড়া কোনো তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনস্যুরটেক বা স্টার্ট-আপ বীমাকারীর সঙ্গে বীমা পণ্য বা বীমা সেবা দেওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে না। কোম্পানিগুলোর জন্য আইডিআরএর অনুমোদন ৩ বছরের। তবে আইডিআরএ সন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত শর্তে অনুমোদনের সময় বাড়াতে পারবে।

অকা/বীখা/বিপ্র/সকাল/২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version