তারেক আবেদীন ●
দেশের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। অনিয়ম, অর্থ আত্মসাত, রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ, বীমা মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, স্বার্থরক্ষা এবং অযোগ্য মুখ্য নির্বাহীর পদভারে অনেক বীমা কোম্পানি বন্ধ হওয়ায় উপক্রম হয়েছে! এর মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানির সংখ্যায়ই বেশি।
বেশ কয়েক বছর ধরে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাতসহ বিষয়গুলো অব্যাহত থাকায় দেশের বীমা খাতে ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে। খবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ (আইডিআরএ) বীমা কোম্পানিগুলোর একাধিক সূত্রের।
কোম্পানিগুলোকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অনিয়ম নিরসনে বীমা কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তেমন একটা কাজ হচ্ছে না। কমছে না দুর্নীতি ও অনিয়ম। জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ মন্দাবস্থা বেশির ভাগ চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানির ক্ষেত্রে।
জানা গেছে, চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডকে আইডিআরএ থেকে গত আগস্ট মাসে ৩টি চিঠি দেয়া হয়। ২১ আগস্টে দেয়া চিঠির (স্মারক– ৫৩.০৩.০০০০.০৭১.২৭.০০১.২২.২৯) বিষয় ছিল শুনানীর জন্য স্বদেশ লাইফের পুনঃআবেদন নাকচ, ১৭ আগস্টের চিঠির (স্মারক– ৫৩.০৩.০০০০.০৩২.১১.০০৯.১৮.৫০) বিষয়- স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন না দেয়া এবং ৩ আগস্টের চিঠিতে (স্মারক– ৫৩.০৩.০০০০.০৭১.২৭.০০১.২২.২৬) মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংপৃক্ততা না রাখা। স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডকে কেন্দ্র করে আইডিআর’র তিনটি চিঠিই নেতিবাচক। ৩ আগস্টের চিঠিটি বেশ উদ্বেগজনক এবং রীতিমত প্রতারণামূলক জালিয়াতি সংক্রান্ত! নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর পরিচালক (আইন) এস. এম. মাসুদুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে স্বদেশ লাইফকে বলা হয়- নিয়ন্ত্রকারী প্রতিষ্ঠানের তদন্তকারী দল কোম্পানিটির বহুবিধ অনিয়ম পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয় গ্রাহকের প্রিমিয়ামের অর্থ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন তার ব্যক্তিগত হিসাবে জমা এবং বেআইনীভাবে তিনি কোম্পানি থেকে ইনসেটিভ বোনাস গ্রহণ করেছেন। শাহীনের এরূপ কর্মকান্ড বীমা আইনের লংঘন, বীমাকারী ও বীমা গ্রহীতা উভয়ের স্বার্থের জন্য হানিকর এবং বীমা খাতের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এদিকে স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ২/৩ জন বড় কর্মকর্তা ছাড়া ৪/৫ মাস ধরে কেউ বেতন পাচ্ছে না। মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন এক সপ্তাহ ধরে অফিসে আসছেন না। উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে রয়েছেন। এমডিবিহীন স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এখন। কোম্পানিতে এত ঘটনা ঘটে চলেছে তা মালিক পক্ষ তেমন একটা অবহিত নয়। আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ব্যবসা ও ব্যয়, মাত্রাতিরিক্ত কমিশন প্রদান এবং অনিয়মের কারণে চলতি বছরের মে মাস থেকে কোম্পানিটির প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহ বন্ধ করে দেয় নিয়ন্ত্রক আইডিআরএ।
অনিয়ম ও আইন লংঘন করে বীমা ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে অযোগ্য প্রধান নির্বাহীর কর্ম সম্পাদন এ খাতের বড় সমস্যা। অর্থকাগজ এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাইফ ও নন লাইফ মিলিয়ে ১০ জন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার শিক্ষাগত সনদ বিতর্কিত এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক মেয়াদকালের ক্ষেত্রেও অযোগ্য। আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার বাজারে অবৈধ বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা অর্জনকারী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সাবেক চেয়ারম্যান বিতর্কিত ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএকে ‘ম্যানেজ’ করে বিতর্কিত শিক্ষা সনদ দিয়ে একাধিক কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা অনুমোদন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম প্রজন্মের একটি জীবন বীমা কোম্পানিও রয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি জীবন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা যিনি আর্থিক কেলেংকারি অভিযোগে কোম্পানি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন সম্প্রতি, তার দায় বহন করতে হচ্ছে বর্তমান মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে। নন লাইফের একটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী যিনি বহু বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তার বিরুদ্ধেও সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ বছর চলতি দায়িত্বে থেকে বয়স ও মেয়াদকালের অযোগ্যতায় বেআইনীভাবে মোশাররফের আমলে একাধিক প্রধান নির্বাহী অনুমোদন পেয়েছেন যারা চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। প্রথম প্রজন্মের জীবন বীমার একটি প্রতিষ্ঠানে ৩ বছরের জন্য পর্ষদের নিয়োগ পাওয়া একজন প্রধান নির্বাহীর ভূয়া সনদের খবর অর্থকাগজ অনলাইন সংস্করণে (২১ মে, ২০২৩) প্রকাশিত হওয়ায় পর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তদন্ত করে এর সত্যতা খুঁজে পায়। পরে ওই নির্বাহী নিয়োগপত্র বাতিল করে দেয় আইডিআরএ। বর্তমানে তিনি পেশার বাহিরে রয়েছেন।
১৬ জন মুখ্য নির্বাহীর মধ্যে ১০ জনের শিক্ষা সনদ বিতর্কিত বলে জানা গেছে। এরা অধিকাংশ চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানির দায়িত্বরত এমডি। কারো সনদ ঘষামাজা করা, কারো সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর অঅনুমোদিত, কারো স্নাতক ডিগ্রী শিক্ষা স্তরে বাণিজ্য, মানবিক বা বিজ্ঞান শাখার একাধিক সনদ রয়েছে। কারো আবার একই বছরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষা সনদ বিদ্যমান। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন এমডি পদে দায়িত্ব পালনকারী চতুর্থ প্রজন্মের একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা প্রধান মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে মে মাসে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর অনুমোদন পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি কোম্পানির ছোট একজন মালিকও বটে। কাউকে তিনি মানেন না। কেননা, তার পিছনে রয়েছে বড় বড় শিল্পপতি এবং প্রভাবশালী সরকারি নীতি নির্ধারক। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে শিক্ষাগত সনদে বড় ধরনের ঘাপলা। প্রভাবশালী এই মুখ্য নির্বাহীর সনদে দেখা যায় একই বছরে অর্থাৎ ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদ লাভ করেছেন। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানে উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা তার সহকর্মী ছিলেন। বিতর্কিত হবার পরও ‘সুসম্পর্ক’ অনুমোদন লাভে তাকে সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। চতুর্থ প্রজন্মের আরেকটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের সুদর্শন তরুণ প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি আবাসন ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। যা বেআইনী। চতুর্থ প্রজন্মের একটি জীবন বীমা কোম্পানির নতুন একজন এমডির স্নাতক স্তরে দুই শাখার দু’ ধরনের শিক্ষা সনদ রয়েছে। আগের কোম্পানিতে একটি শাখায় পাশকৃত স্নাতক পাশ সনদ দিয়ে চাকরি করেছেন। তখন তিনি শীর্ষ পদে ছিলেন না। বর্তমান কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ অনুমোদনের জন্য অপর স্নাতক সনদ নিয়ন্ত্রণকারি প্রতিষ্ঠান বরাবর জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় চলতি দায়িত্বে থাকা চতুর্থ প্রজন্মের আরেকটি জীবন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দু’ ধরনের শিক্ষা সনদ রয়েছে। কোম্পানির ওয়েবপেজে একটি প্রদর্শিত হচ্ছে। চতুর্থ প্রজন্মের আরেকটি জীবন বীমা কোম্পানির দায়িত্বরত মুখ্য নির্বাহী যিনি জনপ্রিয় একটি শিল্প গোষ্ঠীর একজন মালিকের আত্মীয় বলে পরিচিত। অভিজ্ঞতার শর্ত যেমন পুরণ করেননি সেই নির্বাহী, তেমনি তার শিক্ষা সনদও রয়েছে বিতর্ক।
জনমুখী বীমা ব্যবসায়ের কোম্পানিতে শিক্ষাগত বা অভিজ্ঞতায় যোগ্য একজন জীবন বীমার মুখ্য নির্বাহী যিনি গোঁজামিল দিয়ে বার্ষিক হিসাব তৈরিতে সাহায্য করেছেন, অথচ তার কোন অনুশোচনা নেই। এদের মধ্যে কেউ হামবড়া ভাব প্রদর্শন করছেন, কেউ অবৈধ কমিশন দিয়ে ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ আছে। আগের কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র না নিয়ে বেশ ক’জন প্রধান বীমা নির্বাহী কাজ করছেন অনেকদিন ধরে। নন লাইফ বীমার একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ৬ বার তার বেতন ও ভাতা বাড়িয়ে অনুমোদন ছাড়া ২ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান বা প্রভাবশালী পরিচালককে ‘ম্যানেজ’ করে একাধিক এমডি কাজ করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। বীমার অনেক চেয়ারমান ও প্রভাবশালী পরিচালক নিয়মিত অফিস করেন। কোম্পানির অর্থে নিজের ব্যয় নির্বাহ করেন এমন অভিযোগ নতুন নয়।
দেশে ৪৫টি নন লাইফ ও ৩৪টি লাইফ বীমা কোম্পানি ব্যবসায়ে নিয়োজিত। এরমধ্যে বর্তমানে ৮টি জীবন বীমা (লাইফ) ও ৮টি সাধারণ বীমা (নন লাইফ) কোম্পানিতে চলতি দায়িত্বে কাজ করছেন দীর্ঘ সময়। ৬ মাসে অধিক সময় এরা দায়িত্ব পালন করছেন যা আইনসম্মত নয়। এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র বক্তব্য হচ্ছে যোগ্য প্রধান নির্বাহীর অভাব। চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানিতে দায়িত্বরত এমডিসহ ১০ জন শীর্ষ নির্বাহীর বিতর্কিত সনদপত্র নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন হওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইডিআরএ। শিক্ষা সনদ জালিয়াতি ও বড় ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ৩ মাসের মধ্যে ২ জন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ অনুমোদন বাতিল করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ১০ জনের বিতর্কিত সনদপত্র খতিয়ে দেখেছে বলে কর্তৃপক্ষের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অগ্নি পরীক্ষায় অবতীর্ণ এসব প্রধান বীমা নির্বাহী।
গোটা বীমা খাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান। ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএ’র বিদায়ের পর সরকার ২০২২ সালের ১৫ জুন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জয়নুল বারীকে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান হিসেবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্সের অংশ হিসেবে তিনি বীমা খাতের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসেন। চতুর্থ প্রজন্মের একটি জীবন বীমা কোম্পানির ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। বীমা দাবী প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রাহক ও জনতা মাঠে নেমে এসে প্রতিবাদের মিছিলে সমবেত হয়েছে। ১৪টি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে, তাতে গ্রাহক তাঁদের দাবী ও পাওনা থেকে বঞ্চিত হবেন। চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য বীমা খাতের অভিজ্ঞ মহলের কাছে প্রশংসিত হয়। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর একজন বড় কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, মুখ্য নির্বাহীর শর্ত পূরণ না করে কোম্পানির অনেক পর্ষদ অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ’র কাছে চিঠি পাঠায়। প্রভাবশালীদের দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়। যদিও পরে পর্ষদ ভুলটা দেখতে পান। এ ক্ষেত্রে অতীতে দু’ চারটা ভুলও যে হয়নি তা নয়।
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটড এর পরিচালক এবং অভিজ্ঞ বীমা ব্যক্তিত্ব একরামুল আমিন এফসিএ অর্থকাগজকে বলেন, বীমা খাত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে। আইডিআরএ এর বর্তমান চেয়ারম্যান বীমাবান্ধব মনে হয়। এ খাতের সমস্যা দীর্ঘ সময়ের। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের বড় চারটি এবং তৃতীয় প্রজন্মের ৮টি জীবন বীমা কোম্পানির অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে গোটা বীমা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে দেশী কোম্পানিগুলো আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারছে না। সময়মত গ্রাহকের পাওনা না দেওয়া এ খাতের বড় সমস্যা। বীমা কোম্পানিতে অযোগ্য মুখ্য নির্বাহী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অনেক অযোগ্য উদ্যোক্তার হাতে পড়েছে বীমা কোম্পানি। বীমা ব্যবসা তারা বুঝেন তাও নয়। ফলে মুখ্য বীমা নির্বাহীর ওপর বীমা উদ্যোক্তাদের নির্ভর করতে হয়। আর তখনই ঘটে অঘটন! তাছাড়া মুখ্য বীমা নির্বাহী পদে তাদের নির্বাচন আর যাই হোক ভালো হয় না। ব্যবস্থাপনায়ও নিয়ন্ত্রণ চায় বীমা মালিকেরা। দ্রুত লাভ চাইতে গিয়ে মালিকরা কোম্পানিকে আর দৃঢ় অবস্থানে নিতে পারেন না। অথচ শ্রম বাজারে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রধান নির্বাহী যে নেই তাতো নয়। শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বীমা উদ্যোক্তা যেমন কর্পোরেট সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী, তেমনি শিক্ষিত নির্বাহীকেই তিনি বেছে নিবেন। বীমা কোম্পানিতে শিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন মুখ্য নির্বাহীর নিয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে দেশীয় বীমা কোম্পানির ওপর জনগণ ও গ্রাহক আস্থা হারাবে। যা হবে ভয়াবহ! ●
অকা/বীখা/সন্ধ্যা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে
