অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এখন এক সম্ভাবনাময় বুল মার্কেটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসা এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কারের কারণে পুঁজি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক বাজার উল্লম্ফনের সঙ্গে তুলনা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশও একই ধরনের উত্থানের দিকে এগোতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিলে ইবিএল সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত “ইনভেস্টর অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম”-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ রেহান কবির এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বাজারের মতোই একটি বড় উত্থান ঘটতে পারে। ওই দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি কমা এবং ট্রেজারি বন্ডের ফলন হ্রাস বাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিল। বাংলাদেশেও বর্তমানে একই ধরনের ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
রেহান কবিরের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বগতি, সরকার ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শেয়ার বাজারকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে। তার মতে, এখন সঠিক বিনিয়োগ কৌশল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আর্থিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করা। এতে বক্তারা বলেন, সঠিক তথ্য ও কৌশল সম্পর্কে অবগত হলে বিনিয়োগকারীরা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ইবিএল সিকিউরিটিজের গবেষণা টিমের সদস্য রাশাদুর রহমান রতুল, রায়হান আহমেদ, এ কে এম আরিফ উজ্জামান ও জুহায়ের শামস বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তারা খাতভিত্তিক সম্ভাবনা, উদীয়মান ঝুঁকি ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “শেয়ার বাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কেবল সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নয়, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও আর্থিক প্রতিবেদন স্বচ্ছতাও অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগকারীরা যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাজারে আসেন, তবে সম্ভাব্য বুল মার্কেট বাস্তবে রূপ নিতে পারে।” অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন মনে করেন, “বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে, তবে তা ধরে রাখতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও কার্যকর হতে হবে। মিথ্যা বা গুজবভিত্তিক লেনদেন ঠেকাতে শক্ত পদক্ষেপ জরুরি।”
ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, তারা নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা তাৎক্ষণিক লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, এতে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান যেমন বাড়বে, তেমনি একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজি বাজার গড়ে উঠবে।
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি'র শতভাগ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইবিএল সিকিউরিটিজ বহু বছর ধরে গবেষণাভিত্তিক সেবা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সর্বোচ্চ নিয়মানুবর্তিতার কারণে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্রোকারেজ হাউস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ●
অকা/পুঁবা/ই/সকাল/১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে


