অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দেশের ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশ এখনো নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংক ঋণের বিশাল অংশ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় দেশের অন্যান্য বিভাগগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক কম ঋণ সুবিধা পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা ঋণের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি এখন ঢাকা বিভাগেই কেন্দ্রীভূত।
অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফলে এই দুই বিভাগ মিলেই দেশের মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে।
এর বিপরীতে দেশের অন্যান্য বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে গত ডিসেম্বর শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ আরও কম। সেখানে ডিসেম্বর শেষে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ। একই সময়ে সিলেট বিভাগে ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর ময়মনসিংহ বিভাগে ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা এবং আর্থিক কার্যক্রমের কেন্দ্র মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংক ঋণের বড় অংশও এই দুই অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে বেশিরভাগ ব্যাংকের প্রধান শাখা ও কর্পোরেট অফিসও এই দুই বিভাগে অবস্থান করায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলগুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যাংক ঋণের এই অসম বণ্টন দেশের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অন্যান্য বিভাগে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও ঋণ সুবিধা না থাকলে সেসব অঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসা খাত কাঙ্ক্ষিত হারে বিকশিত হতে পারে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঋণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি যেসব অঞ্চলে ঋণ প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে কীভাবে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশের সব বিভাগেই বিনিয়োগ ও ব্যাংক ঋণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। তাতে শুধু স্থানীয় অর্থনীতি নয়, জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ●
অকা/ব্যাংখা/ই/দুপুর/৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 day আগে

