অর্থকাগজ প্রতিবেদন

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। এই সিদ্ধান্তের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (১০ মে) মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহে অধিকাংশ ফান্ডের ইউনিটদর বেড়েছে। এমনকি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় ১০টির মধ্যে ৮টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ক্লোজ-এন্ড ফান্ড তাদের প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভির তুলনায় উল্লেখযোগ্য ছাড়ে লেনদেন হচ্ছিল। নতুন নীতিমালার ফলে এসব ফান্ডে তারল্য বাড়বে এবং বাজারদর ও সম্পদমূল্যের ব্যবধান কমে আসবে—এমন প্রত্যাশাতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের বাজারদর যদি টানা ছয় মাস ধরে এনএভি বা অভিহিত মূল্যের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কম থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আয়োজন করতে হবে। সেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—ফান্ডটি ওপেন-এন্ডে রূপান্তরিত হবে নাকি অবসায়নের পথে যাবে। অন্তত ৭৫ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারের সমর্থন পেলেই রূপান্তর কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে শেয়ার বাজারে থাকা ৩৪টি ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের মধ্যে প্রায় ২২টি এই নীতিমালার আওতায় পড়তে পারে। আগামী ১২ মে ছয় মাসের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই কয়েকটি ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এছাড়া লেনদেনে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এবং ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়। এছাড়া এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড এবং এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদরও ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিএসইসির নীতিমালায় রূপান্তর প্রক্রিয়ার ব্যয়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো কার্যক্রমে ফান্ডের মোট আকারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে। এর মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি পাবে ০.৫০ শতাংশ এবং ট্রাস্টির ফি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন ও কারসাজি ঠেকাতে রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট ফান্ডের লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে তাদের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অকার্যকারিতা দূর করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে গতি ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ হালনাগাদ 10 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version