অর্থকাগজ প্রতিবেদন

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকে সামগ্রিকভাবে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জুলাই-এপ্রিল সময়ে এ খাতে রফতানি হয়েছে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৮২ শতাংশ কম। খাতসংশ্লিষ্টদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন মে মাসকে ঘিরে। তাদের মতে, মাসের শেষ দিকে আবারও দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎপাদন ও শিপমেন্ট কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে রফতানি প্রবাহে আবারও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে দেশের পণ্য রফতানি প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে— যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ৩৯.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।

শিল্প উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে নতুন ক্রয়াদেশ বা বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কোনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। বরং মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে যেসব শিপমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো এপ্রিল মাসে পাঠানো হয়েছে।

ফলে একমাসে রফতানি বৃদ্ধি হলেও তা প্রকৃত বাজার সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বহন করছে না বলে মনে করছেন তারা। শুধু তাই নয়, শিল্প উদ্যোক্তারা এই প্রবৃদ্ধিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘‘এপ্রিলের এই প্রবৃদ্ধি মূলত মার্চ মাসে রফতানি কম হওয়ার ‘বেইজ ইফেক্ট’-এর ফল। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মার্চে প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎপাদন ও শিপমেন্ট ব্যাহত হয়। ফলে মার্চে যেসব পণ্য রফতানি করা যায়নি, তার বড় অংশ এপ্রিল মাসে শিপমেন্ট হয়েছে।’’

রফতানি খাতের বর্তমান দুর্বলতার পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ— উভয় ধরনের চাপ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, অপরদিকে ইউরোপ-আমেরিকায় চাহিদা হ্রাস রফতানি বাজারকে সংকুচিত করছে। অভ্যন্তরীণভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং লজিস্টিক দুর্বলতা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “জ্বালানি নিরাপত্তা, কম সুদে অর্থায়ন এবং শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।”

সব মিলিয়ে রফতানি খাত এখনও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় থাকলেও তা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের প্রবণতাই নির্ধারণ করবে— বাংলাদেশের রফতানি সত্যিকারের ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি উল্টো চাপে পড়বে?

 

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version