অর্থকাগজ প্রতিবেদন> 

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সীমান্তবর্তী পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে নেপিদোর সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মো-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানাকে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের দীর্ঘদিনের পুরোনো পরিকল্পনাও পুনরায় আলোচনায় আসে। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম এ ধরনের পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারও বিষয়টি নতুন করে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের জ্বালানি মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করবে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গও উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, সফরকালে চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ।

এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বিদ্যমান বাংলাদেশ–মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটি পুনরায় সক্রিয় করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এই কমিটির বৈঠকের মাধ্যমেই পাইপলাইনসহ সম্ভাব্য জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা ও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version