অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে লেনদেন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তবে দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারগুলো সূচকের উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও লেনদেনের শেষদিকে এসে বিক্রয়চাপ সামলে উঠতে না পেরে সূচকের মিশ্র প্রবণতা দিয়েই দিন শেষ করে দেশের দুই পুঁজি বাজার। এরই মধ্যে ঢাকা শেয়ার বাজারে লেনদেন পৌঁছে যায় ৪৯৭ কোটি টাকায় যা আগের দিন অপেক্ষা ১৫ কোটি টাকা বেশি। ১৯ মার্চ বাজারটির লেনদেন ছিল ৪৮২ কোটি টাকা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ২০ মার্চ ৫ দশমিক ৬ পয়েন্ট হারায়। ৫ হাজার ২০৭ দমিক ৩৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে ৫ হাজার ২০১ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে স্থির হয়। বাজারটির অপর দুই সূচকের মধ্যে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো নিয়ে করা ডিএসই -৩০ সূচকটি ৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে দশমিক ১৯ পয়েন্ট।
২০ মার্চ ঢাকা শেয়ার বাজারে প্রধান সূচকটি ৫ হাজার ২০৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে সকাল সাড়ে ১০টায় পৌঁছে যায় ৫ হাজার ২২৩ পয়েন্টে। এ সময় লেনদেন হওয়া কোম্পানির একটি বড় অংশই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় জায়গা করে নেয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকে। সাধারণত সপ্তাহের শেষদিন প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বিক্রয়চাপ বেশি থাকে। ২০ মার্চও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত এ চাপ সহনীয় থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বৃদ্ধি পায়। এতে দিনশেষে দু’টি সূচকের সামান্য অবনতি ঘটে।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূকের ৭ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। ঢাকার মতো এখানেও মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো নিয়ে গড়া সিএসই-৩০ সূচকটি ২৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। অবার ১ দশমিক ৩১ পয়েন্ট হারায় সিএসসিএক্স সূচকটি।
তবে বাজারগুলোতে মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গড়া সূচকগুলোর উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজার এখনো পুরোপুরি আস্থায় ফেরেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়েই বেশি সক্রিয় ছিলেন। কারণ দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক দরপতনে এ ধরনের কোম্পানিগুলোই বেশি পতনের শিকার হয়। এতে এদের মূল্যস্তর অনেক নিচে নেমে আসে যা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ ধরে রাখে। এর ফলে একদিকে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো দর হারাতে থাকে। আবার দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের চাইতে দ্রুত মুনাফা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। আর এর ফলে বাজারে চলতে থাকে অস্থিরতা।
এ দিকে বিগত কয়েক দিন মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় থাকা মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে গতকাল সংশোধন ঘটেছে। গতকাল এ খাতের ৮০ শতাংশ ফান্ডই দরপতনের শিকার ছিল। আর দুই বাজারেই দরপতনের শীর্ষ তালিকায় বেশ কয়েকটি ফান্ডের উপস্থিতি দেখা যায়। ২০ মার্চ দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে শাইনপুকুর সিরামিক লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, এ দিন শাইনপুকুর সিরামিকের ২০ কোটি ৪২ লাখ টাকায় ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তাতে লেনদেনের শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি। লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা একমি পেস্টিসাইডসের ৯৭ লাখ ৯৫ হাজার শেয়ার ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় লেনদেন হয়েছে। আর ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় ১৪ লাখ ৭১ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- ওরিয়ন ইনফিউশন, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, এস আলম কোল্ড, ফু-ওয়াং ফুড এবং গোল্ডেন হার্ভেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ সময় লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মাইডাস ফাইন্যান্সিং পিএলসি।
সূত্র মতে, এ দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে ৮০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। তাতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। আর ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড। এ ছাড়া, আজ ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো- একমি পেস্টিসাইড, সামিট পাওয়ার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বেক্সিমকো ফার্মা, বিবিএস এবং আইসিবি। একই সময় দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে ৯০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। তাতে দরপতনের শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি।
দরপতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
এ ছাড়া, ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, বসুন্ধরা পেপার, হাক্কানি পাল্প, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, জিল-বাংলা সুগার মিল এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড।
২০ মার্চ ঢাকা শেয়ার বাজারে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৩ টি হাওলায় মোট ২১ কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় যার বাজারমূল্য ছিল ৪৯৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এখানে মোট ৩৯৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার হাতবদল হয় হয় যার মধ্যে ১৩৮টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, ১৯৯টি দর হারায় এবং ৬০টির দার অপরিবর্তিত থাকে। অপরদিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ১৮৮টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ৮০টির দাম বাড়ে, ৭৯টির কমে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/২১ মার্চ, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 12 months আগে

