অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
শেয়ারবাজারে ব্যক্তির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি করে ক্যাপিটাল গেইন অর্থাৎ মূলধনি মুনাফা হলে, ব্যক্তিকে ওই আয়ের ওপর কর দিত হবে কিনা, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি কর আইন ২০২২-এর পরিপত্রের স্পষ্টীকরণ করতে গিয়ে যে বক্তব্য প্রকাশ করেছে, তা নিয়েই এ বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এনবিআর প্রকাশিত পরিপত্রের ১২.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ধারা ৩২-এর ৭ নং উপধারা অনুযায়ী, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানির স্টকস ও শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মূলধনি আয় ৩১ ধারার আওতায় করারোপিত হয় না। অর্থ আইন ২০২২-এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৩২ ধারার ৭ নং উপধারা বিলোপের ফলে সরকারি সিকিউরিটিজ এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির স্টকস এবং শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মূলধনি আয় করযোগ্য আয় হিসেবে পরিগণিত হবে এবং প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে।
শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক নির্বিশেষে সব বিনিয়োগকারীকে সরকারি সিকিউরিটিজ (যেমন- বিল ও বন্ড) এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচায় মুনাফা করলে প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে।
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, এনবিআরের আয়কর-সংক্রান্ত পরিপত্রের স্পষ্টীকরণে ব্যাখ্যা শুনে তিনি অবাক হয়েছেন। বাজেট পাস হয়েছে আড়াই মাস। অর্থবিল পেশ করা হয় প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে। এ সময়েও আয়কর আইনের গুরুত্বপূর্ণ এ পরিবর্তন সম্পর্কে কেউ কিছু জানতে পারল না।
বিএসইসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএসইসি শেয়ারবাজারকে ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। নতুন এ বিভ্রান্তি নতুন সংকট তৈরি করবে। শেয়ারবাজার অর্থনীতির অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে ২০১২ সালের সরকারের নির্দেশনা আছে, শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিতে হলে সংশ্নিষ্ট সরকারি দপ্তরকে বিএসইসির সঙ্গে আগাম আলোচনা করতে হবে বা পরামর্শ নিতে হবে।
জানতে চাইলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, এনবিআরের এ স্পষ্টীকরণ শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশার। সবাই জানে, ব্যক্তির মূলধনি মুনাফায় কর নেই। ২০১৫ সালের ১ জুলাই এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩(এম) ধারায় বর্ণিত করদাতা ছাড়া অন্যদের (যেমন- ব্যক্তি করদাতা) মূলধনি মুনাফায় আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন স্পষ্টীকরণ নতুন বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে অবিলম্বে নতুন করে স্পষ্টীকরণ করে এ বিভ্রান্তি দূর করা দরকার।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম জানান, ২০১৫ সালের ১ জুলাই এনবিআরের এক সার্কুলারে ব্যক্তির ক্যাপিটাল গেইন করমুক্ত করা হয়েছে, যা এখনও বলবৎ আছে।
কর আইন বিশ্নেষক ও আইনজীবী স্নেহাশীষ বড়ূয়া বলেন, ২০১৫ সালের ১ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপন বহাল থাকলে ব্যক্তিকে ক্যাপিটাল গেইনের ওপর কর দিতে হবে না। আয়কর অধ্যাদেশের ৩২-এর ৭ নং উপধারা রহিত করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সরকারি সিকিউরিটিজ, অর্থাৎ ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগের ওপর অর্জিত আয়ের ওপর কর অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন শেয়ার কেনাবেচায় প্রযোজ্য হারে (ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানির ক্যাপিটাল গেইনের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হয়) ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের আয়ের ওপরও কর দিতে হবে।
#
অকা/পুঁবা/ দুপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে

