অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

দেশের টেলিকম খাতে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর করের অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে মোবাইল ফোনে রিচার্জের ক্ষেত্রে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ কর ও ভ্যাট হিসেবে কেটে নেওয়া হয়, তাকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে বর্তমান প্রশাসন। সম্প্রতি সরকারি উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের ১০০ টাকার রিচার্জ থেকে ৩৮ টাকা বা তার বেশি কর হিসেবে কেটে নেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি পর্যালোচনার সময় এসেছে এবং এই বোঝা কমাতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

করের বোঝা ও গ্রাহক ভোগান্তি

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত টেলিকম নীতিমালা বিষয়ক এক সেমিনারে উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিরা মোবাইল সেবার ওপর আরোপিত বর্তমান কর কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে যে পরিমাণ অর্থ কর হিসেবে চলে যায়, তা সাধারণ ১৮ কোটিরও বেশি সিম ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। উল্লেখ্য যে, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছিল। এর সঙ্গে ১৮ শতাংশ কার্যকর ভ্যাট এবং ১ শতাংশ সারচার্জ যুক্ত হওয়ায় গ্রাহকদের ওপর করের ভার দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

টেলিকম খাতের বর্তমান কর কাঠামো

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের জানুয়ারিতে সম্পূরক শুল্ক আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় করের বোঝা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং সারচার্জ মিলিয়ে প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে গ্রাহকদের প্রায় ৫৬ টাকারও বেশি কর গুনতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে গ্রহণযোগ্য নয় বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং এই খাতে সেবার মান অনুযায়ী করের হার নির্ধারণ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কর কমানোর এই উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সেবার মান নিশ্চিতকরণ

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের ৯০ শতাংশ নাগরিককে ফাইভ-জি সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সেমিনারটিতে সরকারি পক্ষ থেকে একটি বড় সত্যও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে—গ্রাহকরা বর্তমানে চড়া দামে সেবা কিনলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মান পাচ্ছেন না। এই ব্যর্থতার দায়ভার গ্রহণ করে সরকার সেবার মান উন্নয়নে টেলিকম অপারেটরগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

নীতিমালা সংশোধন ও প্রত্যাশা

টেলিকম খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি আধুনিক ও জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর কমানোর পাশাপাশি যদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গতির নিশ্চয়তা দেওয়া যায়, তবেই সাধারণ মানুষ প্রযুক্তিগত সুফল ভোগ করতে পারবে। সরকার ও গ্রাহক উভয়ের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কর ব্যবস্থা কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। করের হার কমানোর এই প্রাথমিক আশ্বাস প্রান্তিক পর্যায়ের মোবাইল গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।

Leave A Reply

Exit mobile version