অর্থকাগজ প্রতিবেদন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে আবারও অস্থিরতা ও গভীর তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে আকস্মিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের আমানতে। মাত্র সাত কার্যদিবসেই ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন আতঙ্কিত গ্রাহকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) যেখানে উদ্বৃত্ত থাকার কথা, সেখানে তা নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক স্তরে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা ব্যাংকটির চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ব্যালেন্সও মারাত্মক ঘাটতির মুখে পড়ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই তীব্র সংকট থেকে রক্ষা পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি বিশেষ তহবিল বা তারল্য সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকিং সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খুরশীদ আলমের নিয়োগের আগে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উদ্বৃত্ত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির সিআরআর লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ৭ হাজার কোটি টাকা থাকার কথা, সেখানে টানা গণ-উত্তোলনের ফলে তা বর্তমানে কমে মাত্র ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

এই অস্থিরতার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা যায়, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান আকস্মিক পদত্যাগ করেন এবং একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এই নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শেয়ারহোল্ডার এবং গ্রাহকদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো বিশাল আমানত ভিত্তির ব্যাংকের জন্য ৪-৫ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন তাৎক্ষণিকভাবে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে না। তবে মূল উদ্বেগের জায়গাটি হলো গ্রাহকদের আস্থাহীনতার বার্তাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমানত প্রত্যাহারের এই প্রবণতা যদি আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং মোট উত্তোলনের পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তখন গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে ব্যবস্থাপনা পর্ষদে পরিবর্তন বা বড় ধরনের নীতিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে আমানত তোলার এই হিড়িক কতটা বাড়লে চেয়ারম্যান পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত আসবে, তা নির্ভর করছে নীতিনির্ধারকদের ওপর।

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version