অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সূচকের টানা উন্নতির পর পুঁজি বাজারে যথারীতি সংশোধন ঘটেছে। ১ সেপ্টেম্বর দেশের দুই পুঁজি বাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই দরপতনের শিকার ছিল। ঢাকা শেয়ার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৮টি কোম্পানি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১১৯টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৪৪টি। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৫০টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ৮২টির দাম বাড়লেও কমেছে ১৪১টির। তবে ঢাকা শেয়ার বাজারে সব সূচকের কমবেশি অবনতি ঘটলেও সব সূচকই সামান্য হলেও উন্নতি ধরে রাখে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ১ সেপ্টেম্বর ১০ দশমিক ৬০ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ১ সেপ্টেম্বর দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে। বাজার সংশোধনের স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই সকালে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখো গেলেও পরে বিক্রয় চাপে দর হারাতে থাকে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ। সকাল সোয়া ১০টার দিকে ডিএসইএক্স সূচকটি পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৬৫১ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ৫৬ পয়েন্ট। এখান থেকেই বিক্রয়চাপের শুরু। দিনের বাকি সময় আর চাপ সামলে উঠতে পারেনি বাজারটি। একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯৬ ও ২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট।

তবে দেশের দ্বিতীয় শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সব সূচকের কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এখানে সিএসই সার্বিক মূল্যসূচক ১৭ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়েছে। এ ছাড়া বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ৭৬ দশমিক ২২ ও ৬ দশমিক ৯০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখেছে।

সূচকের অবনতির ফলে ঢাকা শেয়ার বাজারে ১ সেপ্টেম্বর লেনদেন কিছুটা কমেছে। এ দিন ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে বাজারটি, যা আগের দিন অপেক্ষা ১১৫ কোটি টাকা কম। ৩১ আগস্ট ডিএসইর মোট লেনদেন ছিল ১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। তবে চট্টগ্রামে কিছুটা উন্নতি ঘটে লেনদেনের। এখানে ২৩ কোটি টাকা থেকে ২৮ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।

এ দিকে সূচকের পতনের মাধ্যমে বাজারে সংশোধন ঘটলেও কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে কোনো প্রভাব পড়ছে না। যেখানে বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ কোম্পানি দরপতনের শিকার ছিল যেগুলোর মধ্যে ছিল মৌলভিত্তিসম্পন্ন বেশ কিছু কোম্পানিও সেখানে বেশ কিছু দুর্বল কোম্পানিকে ১ সেপ্টেম্বর বাজারগুলোর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিতে দেখা যায়। এর মধ্যে এমন কোম্পানিও রয়েছে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখে সংস্থাটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। এ ছাড়া ডিএসইতে দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় উঠে আসা কোম্পানির একটি বড় অংশই দুর্বল মৌলভিত্তির। স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে সংবেদনশীল কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলেও কোম্পানির এ ধরনের কোনো তথ্য দিতে পারছে না। অথচ দিনের পর দিন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েই চলেছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ডিএসই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও তা সংশ্লিষ্টরা কানে তুলছেন না।

পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজার যখন স্বাভাবিকত্ব হারাবে তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু মানুষ লাভবান হলেও বাকিরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবেন। সাম্প্রতিক সময়ে এটাই পুঁজিবাজারের বাস্তবতা। তা ছাড়া আমরা দ্রুত মুনাফা লাভের মাধ্যমে দ্রুত বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখি বলেই ইতোমধ্যে দু’ দু’বার বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে পুঁজি বাজারকে। তারপরও কিন্তু এ প্রবণতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না। অথচ কয়েক বছরের টানা মন্দা কাটিয়ে বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরেছে তিন মাসও হয়নি। এর মধ্যেই আমরা এ কঠিন সময়ের কথা ভুলে বসে আছি; যখন কোম্পানির মৌলভিত্তির চেয়েও বাজারে চাওড় হওয়া নানা গুজবের দ্বারাই বেশি চালিত হতে দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের। এটি তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা লাভবান করলেও দীর্ঘমেয়াদে পুঁজি বাজারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

১ সেপ্টেম্বর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা শেয়ার বাজারে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে লাভেলো আইসক্রিম। ২৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২৮ লাখ ৪৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ১ সেপ্টেম্বর। ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকায় ২০ লাখ ৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি ব্যাংক, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, রবি অজিয়াটা, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও পপুলার লাইফ।

ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানি ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি ইনটেক অনলাইন। ১ সেপ্টেম্বর ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দিনের এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল বস্ত্র খাতের দেশ গার্মেন্ট। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে বঙ্গজ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আরামিট লি., সমতা লেদার, সিনো বাংরা ইন্ডাস্ট্রিজ, এপেক্স ফুড ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স লি.।

অপর দিকে ১ সেপ্টেম্বর দরপতনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ দর হারিয়ে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন ছিল দ্বিতীয় স্থানে। দরপতনের শীর্ষ ১০কোম্পানির তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, হামি ইন্ডাস্ট্রিজ, রিজেন্ট ক্সেটাইলস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, জিএসপি ফিন্যান্স, ফার ইস্ট ফিন্যান্স, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও তাল্লু স্পিনিং। ●

অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version