অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বেশ কিছু অনিয়ম দূর করার জন্য হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর পরিচালকদের সুনিদিষ্ট ৮টি নির্দেশ দিয়েছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
রাজধানীর দিলকুশাস্থ আইডিআরএ’র কার্যালয়ে ১২ জুন বিকেলে কোম্পানিটির পরিচালকদের সঙ্গে দু’ পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। অর্থকাগজকে পাঠানো এক চিঠিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এ তথ্য জানিয়েছে ।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর সভাপতিত্বে বৈঠকে হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর চেয়ারম্যান হান্নান মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালকবৃন্দ এবং মুখ্য নির্বাহীর সমন্বয়ে ১২ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সভায় কর্তৃপক্ষের সদস্য এবং নির্বাহী পরিচালকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরাজমান সংকট উত্তরণে ৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়।
এসব নির্দেশনার হলো জুন ২০২৩ পর্যন্ত সকল অনিষ্পন্ন বীমা দাবি অবিলম্বে পরিশোধ, আগামী ৩ বছরের ব্যবসায়িক কর্ম পরিকল্পনা দাখিল, পলিসি নবায়নের হার কমপক্ষে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা।
এ ছাড়াও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনুমোদিত সীমার মধ্যে রাখা, বছরের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় এ বছরের অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বয় করে অনুমোদিত সীমার মধ্যে আনা, কোম্পানির লাইফ ফাণ্ড বৃদ্ধির জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা, অপরিশোধিত বীমা দাবি কোম্পানির হিসাবে সঠিকভাবে প্রভিশন করা এবং কোম্পানির তহবিল তসরূপের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া।
বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মতিঝিলস্থ হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর প্রধান কার্যালয়ে আজ এক পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই কোম্পানির উর্ধ্বতন ব্যবন্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ উন্নয়ন কর্মকর্তারা মিলে তিনটি পক্ষ সমাবেত হয়। পর্ষদ সভায় বেশ হট্টগোল হয়। পরিচালকদের একটি পক্ষ বর্তমান মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল বলে জানা যায়।
১৯৯৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুমোদনপ্রাপ্ত দ্বিতীয় প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড ২৭ বছরেও পুঁজি বাজারে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ পরিচালকদের মধ্যে বিবাদ, রেষারেষি, অনিয়ম ও দুর্নীতি। সিলেট ও লন্ডনে অবস্থানরত এসব পরিচালকদের এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরও আরেকটি কারণ। পরিচালকদের নেতিবাচক এ কর্মকাণ্ডে উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও অতীতে জড়িত হয়। পরিচালকদের একটি পক্ষ বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে পছন্দ করছে না। পরিচালকদের এ মনোভাবের কারণে হোমল্যান্ড লাইফ ঠিকমত কাজ পরিচালনা করতে পারছে না। পর্ষদের ৩ জন পরিচালক, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
জানা গেছে, বেকায়দায় পড়েছে হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। চলতি বছরের এ পর্যন্ত সকল বীমা দাবি পরিশোধসহ কোম্পানির তহবিল থেকে তছরূপ হওয়া ১৯৮ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যূরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর পরিচালকদের। এ নির্দেশ আইডিআরএ’র ●
অকা/বীখা/ রাত, ১৩ জুন, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে
