অর্থকাগজ প্রতিবেদন

দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে আলোচিত একীভূত প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ আবারও অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে। পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে এক ছাতার নিচে এনে পুনর্গঠন, তারল্য সংকট কাটানো এবং গ্রাহক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তার বাস্তব অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও একীভূতকরণের গতি, প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হয়ে উঠেছে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন। ধাপে ধাপে আমানত ফেরতের একটি কাঠামো চালু থাকলেও বাস্তবে অনেক গ্রাহকই তাদের অর্থ পেতে বিলম্ব ও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছেন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে হয়েছে—যা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা স্পষ্ট করে।

এদিকে অংশীদার ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একটি ব্যাংকের সরে যাওয়ার উদ্যোগ এবং অন্যদের একই পথে হাঁটার সম্ভাবনা পুরো কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল ও উচ্চ খেলাপি ঋণে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধুমাত্র প্রশাসনিকভাবে একীভূত করলেই মৌলিক সংকট দূর হয় না—এই বাস্তবতা এখন সামনে আসছে।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরলতা সহায়তা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা না আসায় নীতিনির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই দ্বিধা কাজ করছে—এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালানো হবে, নাকি বিকল্প পথ খোঁজা হবে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধার। নতুন আমানত প্রবাহ কমে যাওয়া, উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত নীতিগত দিকনির্দেশ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রাহক অসন্তোষ, প্রতিবাদ এবং মানববন্ধনের ঘটনাও সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট থেকে বের হতে হলে তিনটি বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি জরুরি—নীতিগত ধারাবাহিকতা, কার্যকর সুশাসন এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান সাফল্য। অন্যথায়, বড় আকারের এই একীভূত উদ্যোগটি টেকসই হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এখন সবার দৃষ্টি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে—সেখানেই নির্ধারিত হবে, এই ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে, নাকি এটি আরেকটি ব্যর্থ আর্থিক পরীক্ষায় পরিণত হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version