অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সূচক ও লেনদেনে বড় ধরনের অবনতি দিয়েই সপ্তাহ শেষ হলো পুঁজি বাজারের। ১৮ সেপ্টেম্বর দেশের দুই পুঁজি বাজারই বড় ধরনের সূচক হারায়। সেই সাথে হ্রাস পেয়েছে লেনদেনও। ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু থেকেই বাজারগুলোতে সূচকের ওঠানামায় এক ধরনের অস্থিরতা প্রকাশ পায়। দিনের মাঝামাঝি সময়ে এসে এ প্রবণতা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও শেষদিকে তা আবার প্রবল আকার ধারণ করে। এতে সূচকের বড় অবনতি দিয়েই লেনদেন শেষ করে দুই পুঁজি বাজার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ১৮ সেপ্টেম্বর ৪২ দশমিক ৪১ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজার ৪৯২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট থেকে সূচকটি দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৪৪৯ দশমিক ৯২ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় ১৯ দশমিক ৯৮ ও ১৩ দশমিক ১০ পয়েন্ট। ১৭ সেপ্টেম্বরও বাজারটিতে সব সূচকের কমবেশি অবনতি ঘটে।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক এ দিন ৮৪ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ১৫ হাজার ৪১৫ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও দিনশেষে সূচকটি নেমে আসে ১৫ হাজার ৩৩০ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৯৮ দশমিক ৭২ ও ৫০ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।

সূচকের টানা অবনতির ফলে ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও হ্রাস পায়। ঢাকা শেয়ার বাজার ১৮ সেপ্টেম্বর ৬৪৯ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৮৮ কোটি টাকা কম। ১৭ সেপ্টেম্বর বাজারটির লেনদেন ছিল ৭৩৭ কোটি টাকা। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে ১২ কোটি টাকায় নেমে আসে লেনদেন। আগের দিন বাজারটির লেনদেন ছিল ২২ কোটি টাকা। পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা ১৮ সেপ্টেম্বরের বাজার আচরণকে সাময়িক অস্থিরতা হিসাবেই দেখছেন। তাদের মতে, এ মুহূর্তে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা দাবি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি নিয়ে আগাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা তাই এ মুহূর্তে কিছুটা সতর্ক আচরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে যেসব শেয়ারে এখনো মুনাফা তুলে নেয়া সম্ভব তা থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন তারা। এটাই সূচকের পতন ঘটাচ্ছে। তা ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিচ্ছেন না বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী। প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। এতে হ্রাস পাচ্ছে লেনদেন। তবে তারা মনে করেন, এটাই খুবই সাময়িক। আগামী সপ্তাহেই বাজার আবার ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

১৮ সেপ্টেম্বর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায় ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও টেলিকমিউনিকেশনের মতো মূলধন সমৃদ্ধ খাতগুলোতে বড় দরপতনই সূচকের অবনতি ঘটিয়েছে। এ ছাড়া মূলধনী কোম্পানিতে অংশগ্রহণ না বাড়লে তার প্রতিফলন ঘটে লেনদেনেও। ঢাকা শেয়ার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪৪টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ৩০৩টি। এটি ডিএসইর লেনদেন হওয়া কোম্পানির ৮৫ শতাংশের বেশি। দর অপরিবর্তিত ছিল ৫০টি শেয়ারের। একইভাবে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারের লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৭টি শেয়ারের মধ্যে ৫০টির দাম বাড়লেও দরপতনের শিকার ছিল ১২৭টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দাম।

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পি.পি. ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৮ লাখ ৪৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় ৫১ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দ্বিতীয় ছিল সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট। এ দিন ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল টেকনো ড্রাগস লি., ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন, এনভয় টেক্সটাইলস, রবি আজিয়াটা, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি।

এ দিন লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ারের ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল টেকনো ড্রাগস লি.। ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এনভয় টেক্সটাইলস, মতিন স্পিনিং, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, হা ওয়াল টেক্স, ইনটেক অনলাইন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

১৮ সেপ্টেম্বর দরপতনের শীর্ষ স্থানটি দখলে রাখে সিএপিএম বিডিবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ দর হারায় মিউচুয়ালি ফান্ডটি। ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ফার্স্ট ফাইন্যান্স, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স এবং জিবিবি পাওয়ার। ●

অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 5 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version