অর্থকাগজ ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রতিবাদে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন। এর প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগত এই নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, ‘‘শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌযানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘যদি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তাহলে পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শত্রুকে তার বাধ্যবাধকতা পালনে বাধ্য করা হবে।’’
এদিকে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও লেবাননের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের দখল বা আগ্রাসনের চেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।
হিজবুল্লাহর দাবি, গত রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়াহ অঞ্চলের কাছে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তাদের যোদ্ধারা হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও ইসরায়েল প্রথম থেকেই তা লঙ্ঘন করে আসছে।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘‘শত্রুর প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার দীর্ঘ ইতিহাস বিবেচনায় রেখে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রস্তুত।’’
হিজবুল্লাহ আরও জানায়, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পাশাপাশি লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখল বা দখলদারিত্ব সম্প্রসারণের চেষ্টা হলে তারা তা রুখে দিতে দ্বিধা করবে না।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে ইরানের এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

