অর্থকাগজ প্রতিবেদন>

বিগত সরকারের আমলে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অনেক প্রকল্পের কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হওয়ায় সেগুলো বাতিল করাও সম্ভব হচ্ছে না, আবার বাস্তবায়ন করতেও বিপুল চাপ সামলাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে আয়োজিত ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বিপুলসংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। অনেক প্রকল্পের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এগুলো না পুরোপুরি বাদ দেওয়া যাচ্ছে, না সহজে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। গত ১৫ বছরের এসব প্রকল্প এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার অর্থনীতিকে নতুন ধারায় পরিচালনার চেষ্টা করছে। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নয়নের সুফল পায়।

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি কুটির শিল্প, তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প ও সাংস্কৃতিক খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারকে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায়ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুঁজিবাজার সংস্কার এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো ধরনের বিলম্ব হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন খাতের অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version