অর্থকাগজ প্রতিবেদন
দেশে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। প্রতি বছর এই চাহিদা বাড়লেও সেই বৃদ্ধির গতি ২০৩০ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই থাকার কথা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রাখা হয়, যাকে স্পিনিং রিজার্ভ বলা হয়।
সেই হিসাবেও ২০৩০ সালে দেশের মোট প্রয়োজন ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হচ্ছে।
বাস্তবে বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে সক্ষমতা প্রায় ৩৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যদিও এর মধ্যে কিছু পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তবু থেকেই যাবে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা।
দেশে এখন ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, যেগুলোর কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এবং মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট।
এ ছাড়া আরও ১৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন, যেগুলোর মোট সক্ষমতা ৫৬৫ মেগাওয়াট। অন্যদিকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৭ সালে উৎপাদনে আসার কথা।
এদিকে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনার কথাও ঘোষণা দিয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী ২০৩০ সালে ৩৫ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় রিজার্ভ মার্জিন অনেক বেশি হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং আরও বেশি ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হতে পারে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

