অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
আড়াই মাস পর আবার পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক। ৯ জুলাই লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় সূচকটি ৫০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক উন্নতির ফলে বাজারটি এ মাইলফলক অতিক্রম করে। দিনের পুরোটা সময় সাবলীলভাবে পার করায় দিনশেষে দেশের দুই পুঁজি বাজারের সবগুলো সূচকের উন্নতির পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজি বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের ফলে সূচকের ব্যাপক পতন ঘটে। এক সময় আস্থার সঙ্কট চরমে পৌঁছে। সঙ্কট নিরসনে পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ দেশের দুই পুঁজি বাজার কর্তৃপক্ষ ও বাজারের অংশীজনদের দফায় দফায় বৈঠক করলেও কোনো কাজ হয়নি। ২৮ মে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে আসে ৪ হাজার ৬১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্টে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকেও মাঠে নামতে হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে কিছু নির্দেশনা দেন তিনি। পরবর্তীতে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পক্ষের ধারাবাহিক সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
২৯ মে থেকে দেশের দুই পুঁজি বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করে। গত দুই সপ্তাহে বাজার পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটে। আর এভাবে আড়াই মাসের মাথায় ডিএসই সূচক আবার পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল সূচকটি ৫ হাজার পয়েন্টের উপরে অবস্থান করছিল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ জুলাই ৫৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়েছে। ৪ হাজার ৯৮১ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ৯ জুলাই দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৩৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। এ সময় ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৮২ ও ১০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক এ দিন ১২৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়েছে। এখানে সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১০১ দশমিক ৭৪ ও ৭৪ দশমিক ০৯ পয়েন্ট।
পুঁজি বাজার বিশ্লেষকরা বাজারের ধারাবাহিক উন্নতিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখলেও এ সময় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কারণ যখনই দেশের পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানে পৌঁছার চেষ্টা করে তখন বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বাজারে নানা গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়। আর এভাবে প্রতারণার শিকার হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করেন, বাজারের মূল্যস্তর এখনো বিনিয়োগের পক্ষে রয়েছে। তবে বাজার থেকে মুনাফা পেতে হলে যে কোনো অবস্থায় মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোতেই বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ রাখার বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমেই বাজারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আর এটা করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়ার বিকল্প নেই। তা ছাড়া সূচকের ধারাবাহিক উন্নতির পর বাজার সংশোধনের স্বাভাবিক দরপতনে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে ওই সময় ধৈর্র্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
৯ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্র্যাংক ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, এ দিন ১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৩৪ লাখ ৬৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ১৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় ৩৩ লাখ ২৪ হাজার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড। আর ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অগ্নি সিস্টেমস।
এ সময় ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে বস্ত্র খাতের রহিম টেক্সাটইল মিলস। এ দিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ১২ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। আর ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর বাড়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ।
ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- শাহজিবাজার পাওয়ার, এস আলম কোল্ড, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, ফার কেমিক্যালস, ডরিন পাওয়ার এবং গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর পতনের শীর্ষে ছিল এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। প্রতিষ্ঠানটির দর আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ১০ পয়সা বা ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইয়াকিন পলিমারের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। আর ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স।
ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল দেশ গার্মেন্টস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়াল, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ।
ঢাকা শেয়ারবাজার ৯ জুলাই ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩টি হাওলায় মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৭৯৩টি সিকিউরিটিজ হাতবদল করে ৬৯০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৮৯ কোটি টাকা বেশি। ৮ জুলাই ডিএসইর লেনদেন ছিল ৬০১ কোটি টাকা। অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টকে ৭ কোটি টাকা থেকে ৪৫ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/৯ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে

