রুনা হোসেন>
চকোলেটের নাম শুনলেই অনেকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আর যদি সেটি হয় নরম, মোলায়েম ও ক্রিমি মিল্ক চকোলেট, তাহলে তো কথাই নেই। এক টুকরো মুখে দিলেই যেন মিষ্টি স্বাদে ভরে ওঠে মন। সেই প্রিয় স্বাদকেই উদযাপন করতে প্রতি বছর পালিত হয় জাতীয় মিল্ক চকোলেট দিবস।
এ দিনটি শুধু একটি জনপ্রিয় খাবারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ নয়; বরং মিল্ক চকোলেটের ইতিহাস, উদ্ভাবন এবং মানুষের জীবনে এর বিশেষ জায়গাকেও স্মরণ করার দিন।
কেন এত জনপ্রিয় মিল্ক চকোলেট?
মিল্ক চকোলেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর মোলায়েম স্বাদ। ডার্ক চকোলেটের তুলনায় এতে তিক্ততা কম এবং মিষ্টতা বেশি। কোকো সলিডসের সঙ্গে দুধ বা দুধের গুঁড়ো, কোকো বাটার ও চিনি মিশিয়ে তৈরি হয় এই সুস্বাদু চকোলেট।
শুধু চকোলেট বার নয়, হট চকোলেট, কেক, কুকিজ, ব্রাউনি, আইসক্রিম, ডেজার্ট—অসংখ্য খাবারের অন্যতম প্রধান উপাদান মিল্ক চকোলেট।
এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, চকোলেটে থাকা থিওব্রোমিন ও অ্যানানডামাইড-এর মতো কিছু যৌগ মস্তিষ্কে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এটি কোনো চিকিৎসা নয়, তবু অনেকের কাছেই এক টুকরো চকোলেট মানেই ছোট্ট সুখের মুহূর্ত।
মিল্ক চকোলেটের জন্মের গল্প
ড্যানিয়েল পিটার এর নাম মিল্ক চকোলেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ১৮৩৬ সালে সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই উদ্ভাবক নতুন ধরনের চকোলেট তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তার প্রতিবেশী ছিলেন হেনরি নেসলে। শিশু খাদ্য তৈরিতে দুধ সংরক্ষণের প্রযুক্তি নিয়ে নেসলের কাজ ড্যানিয়েল পিটারকে নতুন ভাবনার পথ দেখায়।
দীর্ঘ গবেষণা ও নানা পরীক্ষার পর তিনি দুধের সঙ্গে চকোলেট সফলভাবে মিশিয়ে এমন একটি পণ্য তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আধুনিক মিল্ক চকোলেট শিল্পের ভিত্তিও গড়ে ওঠে এই উদ্ভাবনের ওপর।
সুইজারল্যান্ড থেকেই নতুন যাত্রা
ড্যানিয়েল পিটারের মিল্ক চকোলেট তৈরির কাজ এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ডের ভেভে অঞ্চলে। এর আগেও এই শহরের সঙ্গে চকোলেটের ইতিহাস জড়িয়ে ছিল। ১৮১৯ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফ্রাঁসোয়া লুই ক্যালিয়ার চকোলেট তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছিলেন।
পরবর্তীতে ড্যানিয়েল পিটারের দুধ মেশানো চকোলেট তৈরির পদ্ধতি আধুনিক মিল্ক চকোলেট শিল্পের ভিত্তি গড়ে দেয়।
কীভাবে উদযাপন করবেন?
জাতীয় মিল্ক চকোলেট দিবস উদযাপনের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রিয় একটি মিল্ক চকোলেট কিনে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খেলেও দিনটি বিশেষ হয়ে উঠতে পারে।
আর যদি রান্না করতে ভালোবাসেন, তাহলে তৈরি করতে পারেন মিল্ক চকোলেট ক্যান্ডি বার কেক, ব্রাউনি, হট চকোলেট বা চকলেট কুকিজ। শিশুদের সঙ্গে চকোলেট দিয়ে ছোট্ট কোনো ডেজার্ট বানানোও হতে পারে আনন্দঘন একটি পারিবারিক আয়োজন।
মিল্ক চকোলেট ক্যান্ডি বার কেক
উপকরণ
- ১ প্যাকেট ডেভিল'স ফুড কেক মিক্স
- ১½ কাপ দুধ
- ৩টি ডিম
- ¾ কাপ ভেজিটেবল অয়েল
- ১ প্যাকেট ইনস্ট্যান্ট ভ্যানিলা পুডিং মিক্স
- ১ প্যাকেট ক্রিম চিজ
- ½ কাপ চিনি
- ১ কাপ গুঁড়ো চিনি
- ১ পাত্র হুইপড টপিং
- ১ কাপ কুচানো পেকান বাদাম
- ৪টি মিল্ক চকোলেট ক্যান্ডি বার (মোটা করে কাটা)
প্রস্তুত প্রণালি
ওভেন ১৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রি-হিট করুন। কেক মিক্স, দুধ, ডিম, তেল ও পুডিং মিক্স একসঙ্গে বিট করে তিনটি কেক প্যানে ভাগ করে দিন। ২০–২৫ মিনিট বেক করুন।
অন্যদিকে ক্রিম চিজ, চিনি ও গুঁড়ো চিনি মিশিয়ে তাতে হুইপড টপিং, পেকান বাদাম ও কাটা মিল্ক চকোলেট মিশিয়ে ফ্রস্টিং তৈরি করুন। কেক ঠান্ডা হলে স্তরের মাঝে ও চারপাশে ফ্রস্টিং লাগিয়ে পরিবেশন করুন।
মিষ্টি স্বাদ, সুখের স্মৃতি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ—সব মিলিয়ে জাতীয় মিল্ক চকোলেট দিবস হতে পারে বছরের সবচেয়ে মধুর দিনগুলোর একটি। কারণ, অনেক সময় এক টুকরো চকোলেটই হাসি ফোটানোর জন্য যথেষ্ট।
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

