অর্থকাগজ প্রতিবেদন
সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ—সব মিলিয়ে এপ্রিলে দেশের মূল্যস্ফীতির হার আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে; যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। যদিও গত বছরের একই মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ—অর্থাৎ বার্ষিক তুলনায় সামান্য কমলেও মাসভিত্তিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির চাপ স্পষ্টভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান আক্রমণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তোলে। এর প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচে।
এই পরিস্থিতিতে এলপি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।
বাজারে ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি এবং ডিমের দাম বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং অভ্যন্তরীণ বাজার তদারকি জোরদার না করা হলে মূল্যস্ফীতি স্বল্পমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
তাদের মতে, জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা সামাল দিতে বিকল্প নীতি, আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, বাজার মনিটরিং জোরদার–এই তিনটি ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সর্বশেষ হালনাগাদ 18 hours আগে

