অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
শেয়ারবাজারের এসএমই (স্মল ক্যাপিটাল) প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশন স্পষ্ট করেছে, এসএমই প্ল্যাটফর্মের সেকেন্ডারি মার্কেটে নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচার জন্য ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগযোগ্য পোর্টফোলিও থাকতে হবে। তবে কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও)-এ আবেদন এবং সেই অফারের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার লেনদেনের জন্য ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকলেই চলবে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে জারি করা এক ব্যাখ্যামূলক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের একটি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রিট পিটিশন নম্বর ১৪৬৮৪ (২০২৫) এবং আবেদনকারী মো. জামাল হোসেনের আবেদনের আলোকে কমিশন বিষয়টি পরিষ্কার করেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিশন গত ১৯ মে জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানির যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব) বিধিমালা, ২০২২-এ বর্ণিত ‘যোগ্য বিনিয়োগকারী’-এর সংজ্ঞা বাস্তবায়নের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
সে অনুযায়ী, এসএমই প্ল্যাটফর্মে কিউআইওতে আবেদন করা এবং সেই অফারে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রির জন্য ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগযোগ্য পোর্টফোলিও থাকলেই যথেষ্ট।
তবে কিউআইওতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার ছাড়া এসএমই প্ল্যাটফর্মের অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে নিয়মিত কেনাবেচার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগযোগ্য পোর্টফোলিও থাকার শর্ত আগের মতোই বহাল থাকবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কিউআইওতে অংশগ্রহণ এবং কিউআইও থেকে পাওয়া শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রেও ৩০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও প্রয়োজন কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সেই অনিশ্চয়তা দূর হলো।
তাদের মতে, নতুন এই ব্যাখ্যার ফলে ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিওধারী ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা এখন সহজেই কিউআইওতে আবেদন করতে এবং বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন। অন্যদিকে এসএমই প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকার বিদ্যমান শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

