তারেক আবেদীন ●
দেশের চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. শহীদুল আহসানসহ মোট ১২ জনকে পরিচালক পদ থেকে ৫০(১) থারায় অপসারণ করেছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারি প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ যা তহবিল তছরুপের মতো গুরুতর অপরাধ এবং দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিতে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় আজ ৪ জানুয়ারি আইডিআরএ তাদের পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করে। আইডিআরএ’র নির্ভরযোগ্য একটিসূত্র অর্থকাগজকে এ তথ্য জানায়। স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর অপসারিত বাকি ১০ জন পরিচালক হলেন- নূরুল আলম চৌধুরী, মো. বাহারুল আহসান, মো. মারজানুর রহমান, ফারাহ আহসান, এ বি এম আবদুল মান্নান, শামসুন নাহার রহমান, মো. ফিরোজুল আহসান, মো. কামরুল আহসান, মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম ও মদিনাতুন নাহার। ১২ জনকে আলাদা আলাদাভাবে আইডিআরএ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর পরিচালক (আইন) মোহাঃ আব্দুল মজিদ। চিঠিতে বলা হয়- বীমা আইন ২০১০ এর ধারা ২১ মোতাবেক কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত রাখে। কিন্তু সে স্থায়ী আমানতের বিপরীতে এনআরবিসি ব্যাংক হতে কোম্পানি ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার ঋণ গ্রহণ করে। আইনের ২১(২) ধারায় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কোনো তফসিলি ব্যাংকে দায়মুক্তভাবে রাখার বিধান রয়েছে। ঋণ হিসেবে উত্তেলিত টাকা সংশ্লিষ্ট সময়ের স্থিতিপত্রে প্রদর্শন করা হয়নি। তাই এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ৪ ডিসেম্বর কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় পরিচালকদের। কেউই ১১ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত তার জবাব দেননি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ করেননি ।
জানা গেছে, চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডকে আইডিআরএ থেকে বেশ কয় মাস ধরে কড়া নজরদারিতে রাখে। পর্ষদ ও মুখ্য নির্বাহীর অনিয়ম এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য বেশ কিছু চিঠি দেয়া হয় আইডিআরএ থেকে। অনিয়মের জন্য স্বদেশ লাইফের প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম ব্যবসা সংগ্রহের কাজ কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩ আগস্টের চিঠিটিও ছিল বেশ উদ্বেগজনক এবং রীতিমত প্রতারণামূলক জালিয়াতি! নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর পরিচালক (আইন) এস. এম. মাসুদুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে স্বদেশ লাইফকে বলা হয়- নিয়ন্ত্রকারী প্রতিষ্ঠানের তদন্তকারী দল কোম্পানিটির বহুবিধ অনিয়ম পায়। তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয় গ্রাহকের প্রিমিয়ামের অর্থ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন তার ব্যক্তিগত হিসাবে জমা এবং বেআইনীভাবে তিনি কোম্পানি থেকে ইনসেটিভ বোনাস গ্রহণ করেছেন। শাহীনের এরূপ কর্মকান্ড বীমা আইনের লংঘন, বীমাকারী ও বীমা গ্রহীতা উভয়ের স্বার্থের জন্য হানিকর এবং বীমা খাতের শৃঙ্খলার পরিপন্থী। সে চিঠিতে (স্মারক– ৫৩.০৩.০০০০.০৭১.২৭.০০১.২২.২৬) মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংপৃক্ততা না রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর পরিচালক (আইন) এস. এম. মাসুদুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে স্বদেশ লাইফকে বলা হয়- নিয়ন্ত্রকারী প্রতিষ্ঠানের তদন্তকারী দল কোম্পানিটির বহুবিধ অনিয়ম পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয় গ্রাহকের প্রিমিয়ামের অর্থ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন তার ব্যক্তিগত হিসাবে জমা এবং বেআইনীভাবে তিনি কোম্পানি থেকে ইনসেটিভ বোনাস গ্রহণ করেছেন। শাহীনের এরূপ কর্মকান্ড বীমা আইনের লংঘন, বীমাকারী ও বীমা গ্রহীতা উভয়ের স্বার্থের জন্য হানিকর এবং বীমা খাতের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারমান নূরুল আলম চৌধুরীর অর্থ লেনদেন নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে ব্যক্তিগত রেষারেষি রয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগে পর্ষদের উদ্যোগী না হওয়া এবং বীমা গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় কোম্পানিটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ব্যাহত হয়। আইডিআরএ সূত্রটি জানায়, পরিশোধিত মুলধনের বিপরীতে ঋণ গ্রহণ সম্পূর্ণ বেআইনী। যাকে কোম্পানির তহবিল তছরুপ বলা হয়। পরিচালকরা এ ধরনের গুরুতর অনিয়ম দীর্ঘদিন দেখে আসছেন। যা আর চলতে দেওয়া যায় না। স্বদেশ লাইফের ব্যবসায়িক পরিচালনকে স্বাভাবিক রাখা এবং গ্রাহক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে আইডিআরএ তাদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সূত্র আরও জানায়। ●
অকা/বীখা/রাত,৪ জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

