অর্থকাগজ ডেস্ক

এক বছরেরও বেশি সময় আগে দুটি লুনার ল্যান্ডার নিয়ে মহাকাশে উড়াল দেওয়া স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেটের ওপরের অংশ এখন চাঁদের দিকে তীব্র গতিতে ধাবিত হচ্ছে। বুধবার রকেটটির এই অংশটি দুর্ঘটনাবশত শব্দের ৭ গুণ গতিতে (ঘণ্টায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল) চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছে সজোরে আছড়ে পড়বে। এতে চাঁদের বুকে তৈরি হবে বিশাল গর্ত এবং ছড়িয়ে পড়বে ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ, যা দেখতে মুখিয়ে আছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা ও দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাঞ্চল থেকে এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যেতে পারে। কানাডার নিউ ব্রান্সউইক থেকে পর্যবেক্ষণ করতে যাওয়া মহাকাশ ট্র্যাকিং বিশেষজ্ঞ বিল গ্রে জানান, ঘটনাটি চাঁদের নিকটবর্তী আলোকিত অংশে ৩ টন টিএনটির সমপরিমাণ শক্তি নিয়ে ঘটবে। এতে নির্গত ধূলিকণা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত শূন্যে বিস্তৃত হতে পারে এবং দূরবীক্ষণে প্রায় ১০ মিনিট ধরে দেখা যেতে পারে।

লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বেঞ্জামিন ফার্নান্দো অনুমান করছেন, এই সংঘর্ষে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া ও ১৬ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি হতে পারে। নাসার লুনার রিকনস্যান্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি এই ঘটনার আগের ও পরের দৃশ্য ধারণ করবে।

জাপানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় চীনের সতর্কবার্তাজাপানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় চীনের সতর্কবার্তা
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি পরিত্যক্ত এই রকেট অংশটি ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের সফল ব্লু গোস্ট এবং জাপানের আইস্পেস-এর ল্যান্ডার বহন করেছিল। এর আগে ২০২২ সালে চীনের একটি রকেট দুর্ঘটনাবশত চাঁদের দূরবর্তী অংশে আঘাত হানে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশে আবর্জনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করছে।

অবসরপ্রাপ্ত অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট জোনাথন ম্যাকডোয়েল সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি তৈরি হলে এই ধরণের সংঘর্ষ বড় সংকট তৈরি করতে পারে। তাই এখন থেকেই রকেটের ধ্বংসাবশেষ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version