অর্থকাগজ ডেস্ক 

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে নাগরিকদের জন্য একাধিক মাধ্যম চালু রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হটলাইন, ই-মেইল, ডাকযোগে কিংবা সরাসরি অভিযোগ বাক্সে অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। তবে সব অভিযোগ দুদক তদন্ত করে না; কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত অভিযোগগুলোই যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য বিবেচিত হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ অনুযায়ী কমিশনে জমা পড়া অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। এ কাজের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি বিশেষ অভিযোগ যাচাই-বাছাই সেল রয়েছে। নাম-পরিচয় উল্লেখ করে অভিযোগ জমা দিলে অভিযোগকারীর কাছে প্রাপ্তি স্বীকারও পাঠানো হয়।

যেসব মাধ্যমে অভিযোগ করা যায়

দুদকে অভিযোগ জানানোর সবচেয়ে পরিচিত মাধ্যম হলো টোল-ফ্রি হটলাইন ১০৬। দেশের যেকোনো স্থান থেকে এই নম্বরে কল করে দুর্নীতির অভিযোগ জানানো যায়। এছাড়া ডাকযোগে, ই-মেইলে এবং জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে থাকা অভিযোগ বাক্সেও অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও আলাদা হটলাইন সেবা চালু রয়েছে।

সম্প্রতি দুদক আবারও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ঘুষ দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ জানান।

সব অভিযোগ কি দুদক গ্রহণ করে?

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোই মূলত অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়। তবে কোনো অভিযোগ জনস্বার্থ, মানবিক বিষয় বা গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হতে পারে।

সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে দুদককে অবহিত করতেও বলা হয়।

অভিযোগ বাছাইয়ে গ্রেডিং পদ্ধতি

অভিযোগ গ্রহণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুদক কয়েক বছর আগে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করে। এর ফলে অভিযোগ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ কমেছে বলে মনে করছে কমিশন।

দুদকের ভাষ্য, এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ করার প্রবণতা বেড়েছে এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে নাগরিক অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

লাখো কল পেয়েছে দুদকের হটলাইন

দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চালু হওয়ার পর থেকে হটলাইন ১০৬-এ লাখ লাখ কল এসেছে। কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালুর পর থেকে হটলাইনে ৪২ লাখের বেশি কল গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে সব কল দুর্নীতিসংক্রান্ত নয়। অনেক সময় পারিবারিক বিরোধ, সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্যান্য সামাজিক সমস্যার বিষয়েও মানুষ দুদকের হটলাইনে যোগাযোগ করে থাকে। কমিশন সেসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয় অথবা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে।

অভিযোগ করার আগে যা মনে রাখবেন

দুদক কর্মকর্তাদের পরামর্শ হলো, অভিযোগের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তথ্য, নথি, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ যুক্ত করা গেলে তা যাচাই-বাছাই ও তদন্তে সহায়ক হয়। একই সঙ্গে অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে যত বেশি তথ্য দেওয়া যাবে, অভিযোগের কার্যকারিতা তত বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আর সেই অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে দুদকের অভিযোগ ব্যবস্থা।

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version