অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
গ্যাসের সংকট, আমদানি করা জ্বালানির চড়া দাম আর বিশ্ববাজারের অস্থিরতা— সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি খাত এখন চাপে। এই চাপ সামাল দিতে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুৎকেই বড় ভরসা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।
গত রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সৌরবিদ্যুৎ সমাধান’ শিরোনামে সেমিনারটি আয়োজন করে ইআরএফ ও ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্ম (ড্রেপ)।
২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়। এটি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও জ্বালানি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও।
তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ জন্য সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রযুক্তি আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশেই উৎপাদন করতে হবে। তাতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, বাজারে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ কমবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের হাতেও যাবে।
বড় প্রকল্পের চেয়ে ছোট সমাধান
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ও ড্রেপের সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় কৌশলপত্রে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো করে দেখা ঠিক হবে না। বড় সৌর বা বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অনেক জমি ও ব্যয়বহুল সঞ্চালন লাইন দরকার হয়। কিন্তু বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার সুবিধা হলো, যেখানে বিদ্যুৎ দরকার, তার কাছাকাছিই তা তৈরি হয়।
তাঁর মতে, বাসাবাড়ি বা শিল্পকারখানার ছাদ, অব্যবহৃত কৃষিজমি বা ছোট খাসজমিতেই এই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে জমি নিয়ে জটিলতা কম, সঞ্চালনে অপচয়ও কম।
যা করা দরকার
বক্তারা বলেন, রুফটপ সোলার দ্রুত বাড়াতে হলে কয়েকটি কাজ জরুরি। নীতিতে সংস্কার আনতে হবে, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, সোলার সরঞ্জামে শুল্ক ছাড় দিতে হবে এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে শুধু সরকারি প্রকল্প হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

