অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
আবারো পুঁজি বাজারে সূচকের টানা পতন ঘটছে। ২৫ মে নিয়ে টানা তিন দিনের সূচক হারিয়েছে দেশের দুই পুঁজি বাজার। আর সূচকের টানা এ পতনে ক্রমেই তলানিতে পৌঁছে যাচ্ছে বাজারের লেনদেন। ২৫ মে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন নেমেছে ২৩৫ কোটি টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইর সবনিম্ন লেনদেন। ২০২২ সালের জানুয়ারির পর আর এ পর্যায়ে নামেনি দেশের প্রধান পুঁজি বাজারের লেনদেন।
সংশ্লিষ্টরা লেনদেনের ক্রমাবনতিকে বাজারের নেতিবাচক আচরণের ফল হিসেবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা ২৫ মে যে শেয়ার কিনছে তা বিক্রি করতে পারছেন না। প্রতিদিন সূচকের যে পতন ঘটছে তাতে মুনাফা তো দূরের কথা পুঁজি টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে শেয়ার বিক্রির প্রশ্নই আসছে না। আর এখানে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি আটকে যাওয়ায় লেনদেন হ্রাস পাচ্ছে। তা ছাড়া ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রগুলোতে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় তারল্য সে দিকে চলে যাচ্ছে। আবার মন্দার কারণেও নতুন পুঁজি বাজােের ঢুকছে না। সূচক পতনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে লেনদেনের এ ক্রমাবনতি ঠেকানো যাবে না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১০ দশমিক ০৮ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। রোববার ৪ হাজার ৭৪৬ দশমিক ৪২ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ৪ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে। বাজারটির অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৬ ও ৪ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এ সময় ২৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। অন্য দু’টি সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৪১ দশমিক ৭১ ও ১৪ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।
এ দিকে সাম্প্রতিক মন্দা বাজারেও পুঁজি বাজারগুলোর লেনদেনে কমবেশি অস্বাভাবিকতা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এক দিকে দিনের পর দিন সূচকের পতন ঘটে চলেছে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিদিনই কিছু কিছু কোম্পানি দিনের মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চসীমায় লেনদেন হচ্ছে। এ প্রবণতা এখন বলতে গেলে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে হয় কম মূল্য স্তরের ফান্ড বা সিকিউরিটিজগুলো থাকছে নতুবা থাকছে স্বল্প মূলধনী কোনো না কোনো কোম্পানি। গত দুই মাসের বাজার আচরণ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। উল্লিখিত সময়ে দেশের দুই পুঁজি বাজারেই প্রথমে মিউিচুয়াল ফান্ডের বেশ কয়েকটি প্রায় প্রতিদিনই মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে অসছিল। বেশ কিছু দিন এ খাত থেকে মুনাফা তুলে নিয়ে পরবর্তীতে মাঝারি মূল্য স্তরে থাকা অপেক্ষাকৃত ভালো কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল এপেক্স ফুটওয়্যার, বিডি ল্যাম্প, বিএসসি, ইস্টার্ন হাউজিং, এসিআই লি., এসিআই ফরমুলেশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ইত্যাদি।
এর পরই কয়েক দিন বীমা কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করা হয়। ক’দিন এ খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির চোখে পড়ার মতো মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। বাজার আচরণের এ দিকটা সামনে আনলে দেখা যায় সবসময়ই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এ বাজার থেকে সবসময়ই কমবেশি মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। গত কয়েক দিনের লেনদেনেও এর ব্যতিক্রম নয়। এ মুহূর্তে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ফের দরপতনের শিকার হচ্ছে। মাঝারি মূলধনের অপেক্ষাকৃত ভালো কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে আবার আগের দরে ফিরে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন আবার দুই পুঁজি বাজারেই বেশ কয়েকটি কোম্পানি দিনের মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে গেছে। তবে মন্দা বাজারের এ ব্যতিক্রমী আচরণকে এ মুহূর্তে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন।
রোববার প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার। ৯ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৫৯ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার টাকায় ৩৩ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক। এ সময় লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে শাইনপুকুর সিরামিক, বিচ হ্যাচারি, এস আলম কোল্ড রোল, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, খান ব্রাদার্স, পিপি ওভেন ব্যাগ, বারাকা পাওয়ার, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং সি পার্ল বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট।
এ সময় ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দর বেড়েছে। ২৫ মে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এর। এ দিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯.৬৬ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা একই গ্রুপের আরেকটি কোম্পানি বারাকা পাওয়ারের শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা বা ৯.৪৩ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধির এ তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন। এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৭.৩২ শতাংশ, মোজাফফর হোসাইন স্পিনিং ৭.১৪ শতাংশ, সি পার্ল বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ৬.৭৪ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ৫.৯৪ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ৫.৮৮ শতাংশ, ড্রাগন সোয়েটার ৫.৬৮ শতাংশ ও শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির ৫.৫৬ শতাংশ দর বেড়েছে।
এ দিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৫ টির দর কমেছে। ২৫ মে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ইনফরমেশন সিস্টেমস নেটওয়ার্কের। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৩ টাকা ৩০ পয়সা বা ৭.৫২ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান নিয়েছে এই কোম্পানির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেঙ্গল উইন্ডসোরের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ২০ পয়সা বা ৫.৯৭ শতাংশ। দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ভিএফএস থ্রেড ৫.৩৪, এস কে ট্রিমস ৫.০০ শতাংশ, ন্যাশনাল টি ৪.৭৮ শতাংশ, এপেক্স ট্যানারি ৪.৫২ শতাংশ, বসুন্ধরা পেপার মিল ৪.৩২ শতাংশ, শাইনপুকুর সিরামিক ৪.২৯ শতাংশ, কেয়া কসমেটিকস ৪.০০ শতাংশ এবং তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ৩.৬৯ শতাংশ দর হারিয়েছে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২৫ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

