অর্থকাগজ ডেস্ক>

হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে শুল্ক। বন্ধু হোক বা প্রতিদ্বন্দ্বী চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপ বা তার হুমকি দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করেছেন তিনি। এবার সেই শুল্ক ঝড়ের নতুন শিকার প্রতিবেশি কানাডা।

দেশটি থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কে টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তা আরও তীব্র হয়েছে। বাণিজ্যিক বিরোধের পাশাপাশি একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের '৫১তম অঙ্গরাজ্য' করার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প, যা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে অটোয়া । একই সঙ্গে শুল্ক, সীমান্ত, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনাকে আরও গভীর করেছে।

কানাডার দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কানাডা। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তার সরকার প্রস্তুত।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভোক্তা ও শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছের মতো কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এতে ছাড় পেয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ক্রমেই সংঘাতমুখী হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে তিনি ধারাবাহিকভাবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু মিত্র দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পাল্টা জবাবে সেসময় প্রায় ৩০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল কানাডা। যদিও পরে কয়েকটি শুল্ক প্রত্যাহার করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কার্নি । এবারের এ নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কার্নি বলেছেন, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) চেতনাবিরোধী একতরফা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা এটি। অন্টারিওর প্রিমিয়ার (প্রাদেশিক সরকার প্রধান) ডাগ ফোর্ডও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কার্যকর করলে কানাডারও উচিত হবে 'শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ শুল্ক' আরোপ করা।

শুল্কনীতি আরোপ করে পুরো বিশ্বকে তটস্থ করে রেখেছেন ট্রাম্প। ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলের নির্বাচিত পণ্যে ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক, চীনের পণ্যে ২০ শতাংশ, মেক্সিকোর অধিকাংশ পণ্যে ২৫ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশের পণ্যে পৃথক হারে শুল্ক কার্যকর বা ঘোষিত হয়েছে। এছাড়া ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের মতো খাতে দেশভেদে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version