অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
টানা তিন দিনের সংশোধন শেষে ফের ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ার বাজার। উভয় বাজারে সব সূচকের বড় ধরনের উন্নতির পাশাপাশি আট মাস পর প্রথমবারের মতো ৭০০ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। ১৬ জুলাই লেনদেনের শুরু থেকে বড় কোনো বিক্রয়চাপ ছাড়াই সাবলীলভাবে লেনদেন শেষ করে দুই বাজার। এ কারণে ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬ জুলাই ৫৪ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ৫ হাজার ৬২ দশমিক ২০ পয়েন্ট থেকে শুরু করা সূচকটি দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজর ১১৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য দু’টি সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ একই সময় যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৮৪ ও ৯ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে।

অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ১০৫ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। এখানে অন্য দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ১২১ দশমিক ৮১ ও ৬১ দশমিক ০৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নীতি সুদহার কমানোকেই বাজার আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে মনে করছেন। তাদের মতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে পুঁজি বাজারেও।

এর আগে অর্থনীতিতে তারল্য সরবরাহ ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ল্েয নীতি সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত ১৬ জুলাই থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। এই পদেেপর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হঁাঁটছে, যা শেয়ার বাজার ও অর্থ বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা যায়, ১৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার কমবে। এটি ব্যাংকগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহকে আরো সাশ্রয়ী করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তুলনামূলক কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছেও ব্যাংকগুলো কম সুদে ঋণ দিতে পারবে। এতে ঋণ নেয়ার আগ্রহ বাড়বে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে।

ঢাকা শেয়ার বাজারে ১৬ জুলাই ৭৩৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৮১ কোটি টাকা বেশি। ১৫ জুলাই ডিএসইর লেনদেন ছিল ৬৫৩ কোটি টাকা। ৫ নভেম্বরের পর ডিএসইর লেনদেন আর ৭০০ কোটির ঘর অতিক্রম করেনি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১৬ জুলাই লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। ২২ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৪০ লাখ ৪৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়। ২২ কোটি ৪৫ লাখ ১৯ হাজার টাকায় ৩৭ লাখ ৯৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস।

লেনদেনের শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল-এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ , খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, মিডল্যান্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং টেকনো ড্রাগস।

এ দিন ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৯.৭৩ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৯.২৬ শতাংশ।

ডিএসইতে দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল প্যাসিফিক ডেনিমস, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, তাল্লু স্পিনিং মিলস, সাফকো স্পিনিং মিলস ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ ইয়ার্ড এবং পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

অপর দিকে এ দিন সবচেয়ে বেশি দর কমেছে জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৫.৭৫ শতাংশ হ্রাস পায়। ৫.৫৯ শতাংশ দর হারিয়ে দর পতনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল রহিম টেক্সটাইল মিলস।

ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ ১০-এ আরো ছিল ড্যাফোডিল কম্পিউটারস ৫.৩৪, আফতাব অটোমোবাইলসের ৩.৯৬ শতাংশ, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রোভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৩.৭৭ শতাংশ, বাংলাদেশ অটোকারসের ৩.৬০ শতাংশ, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের ৩.৫১ শতাংশ, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের ৩.৫১ শতাংশ, স্টাইলক্রাফটের ৩.৩১ শতাংশ এবং নর্দান জুট লিমিটেডের ৩.২৩ শতাংশ দর কমেছে। ●

অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১৭ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version