অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক সোনালী ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের অনেক দূর এগিয়েছে। গত দুই বছর বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বাসায় বসে প্রান্তিক মানুষের ব্যাংকিংয়ে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের তুলনায় এগিয়ে।
সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালুর মাধ্যমে নেন যাতে করে ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা পেতে পারেন এর কোটি গ্রাহক, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী যোগদানের পর রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকটির কার্যক্রমে গতিশীলতা বেড়েছে। তাঁর সততা ও বিচক্ষণ বিবেচনা দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রশংসিত হচ্ছে।
দেশের এই ব্যাংকটির মোট ১২২৭ টি শাখাই অনলাইন ব্যাংকের আওতায় । দেশের বৃহত্তম এই ব্যাংকটিকে একটি আদর্শ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের মার্চ মাসে সোনালী ই-সেবা অ্যাপ চালু করা হয়।
বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের এই অ্যাপস চালুর পর থেকে জানুয়ারী ২০২২ পর্যন্ত মোট ৯৯,০৩৩টি হিসাব খোলা হয়েছে। এছাড়া ১৭ মার্চ ২০২০ সালে চালু করা হয় সোনালী ই ওয়ালেট যার মোট হিসাব সংখ্যা ১,৩৭,০৮১ টি। বর্তমানে সরকারি এই ব্যাংকে, ছোট খাট লেনদেন করতে এবং হিসাব খুলতে গ্রাহকদের আর ব্যাংকে আসতে হয় না।
সোনালী ব্যাংকের ব্লেজ অ্যাপ ব্যবহার করে প্রবাসী গ্রাহকেরা তাদের কস্টার্জিত অর্থ মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তাদের হিসেবে জমা করতে পারেন।
দেশের সবচেয়ে বড় এই ব্যাংকের সবগুলো শাখা এখন অনলাইন। এই ব্যাংকের আইটি খাতের নিরবিচ্ছিন্ন সার্ভিস দিতে ৩০১ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। সোনালী ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ৬,০০০টি লেনদেন হচ্ছে।
দেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকটির একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা অর্থকাগজকে ডিজিলাইজেশন সম্পর্কে বলেন, বিশ্বে পেপারলেস ব্যাংকিং একটি জনপ্রিয় ধারণা। বাংলাদেশও এত পিছিয়ে নেই। বর্তমানে সব মানুষই স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। করোনাকালীন ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ফলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই সব ধরনের সেবা পাচ্ছেন, বিশেষ করে বয়োঃবৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র সিটিজেনরা যারা সরকারি এই ব্যাংক থেকে ভাতা নেন তাদের জন্য এটি একটি নিরাপদ মাধ্যম।
তিনি বলেন, সময় এখন ভার্চুয়াল এন্ড স্মার্ট ব্যাংকিংয়ের। কোর ব্যাংকিং সলিউশনের মাধ্যমে এখন নন-স্টপ ব্যাংকিং সার্ভিস দেয়া হচ্ছে সোনালী ব্যাংকে। অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যার যুগোপযোগী করে আমরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। অচিরেই সরকারি সব ভাতাসমূহ আমরা ডিজিটালি প্রদান করব, আর আমরা অচিরেই ইন্টারনেট ও এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করবো বৃহত্তর পরিসরে।
করোনাকালীন বেশীরভাগ ব্যাংক বন্ধ রাখলেও দেশের আপামর মানুষের কথা চিন্তা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তার-কর্মচারীরা অফিস করেছেন এই সময়ে। গত বছর সোনালী ব্যাংক শুধু সেবা নয় মুনাফায়ও শীর্ষে ছিল ২০২১ সালে রেকর্ড ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। ২০২০ সাল শেষে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ২১৫৩ কোটি টাকা । সরকারের সামাজিক খাতের ৩৭টি সেবা সোনালী ব্যাংক দিচ্ছে কোন রকম কমিশন ছাড়াই । এসব ভাতাসমূহ উত্তোলনের জন্য যাতে ভাতাভোগীদের আর ব্যাংকে না আসতে হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী অর্থকাগজকে জানান, গ্রাহকের মনের মত পণ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অধিক সেবায় সহজলভ্য বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আশা করি গ্রাহক বৃহৎ ব্যাংকটির উন্নত সেবা পাবেন।
#
অ/বিপ্র/বিকেল/৩১ জানুয়ারি, ২০২২
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে
