বিশেষ প্রতিনিধি>

দেশের তীব্র গ্যাসসংকটের মধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জে তিনটি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সফল হলে এসব কূপ থেকে প্রায় ৭১১ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

এ লক্ষ্যে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মূল্যায়ন-উন্নয়ন (অ্যাপ্রাইজাল-কাম-ডেভেলপমেন্ট) কূপ এবং দুটি অনুসন্ধানমূলক (এক্সপ্লোরেটরি) কূপ খননের প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বেগমগঞ্জ-৫ (মূল্যায়ন-উন্নয়ন) এবং বেগমগঞ্জ-৬ (অনুসন্ধান) কূপ খনন করা হবে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুনেত্র ভূগঠনে সুনেত্র-২ নামে আরেকটি অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৫৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, আর বাপেক্স নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ১৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত তিনটি কূপে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট (এমএমএসসিএফ) গ্যাস যুক্ত হবে। এতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বর্তমানে বেগমগঞ্জ-৩ ও বেগমগঞ্জ-৪ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। নতুন কূপগুলোর সফলতার সম্ভাবনাও আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কারিগরি মূল্যায়ন অনুযায়ী, তিনটি কূপ থেকে সম্ভাব্য ৭১১ বিসিএফ গ্যাসের মূল্য আমদানিকৃত এলএনজির সমপর্যায়ের দরে হিসাব করলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পটি সফল হলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারের জ্বালানি নীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং এ কাজে বাপেক্সকে আরও সক্ষম করে তোলা। স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস অনুসন্ধান সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতা ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধানে সাফল্যের হার তুলনামূলক বেশি। তবে অনুসন্ধানমূলক কূপ খননে শতভাগ সফলতা বিশ্বের কোথাও নেই, তাই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নিয়েই এগোতে হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 8 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version