অর্থকাগজ প্রতিবেদন
চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানি বৃদ্ধি, কিন্তু অন্যদিকে কাঁচামাল আমদানি সে তুলনায় কম বাড়ায় এ খাতে নিট রফতানি হয়েছে ৬১.০৪ শতাংশ — যা গত চার প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তৈরি পোশাক খাতের নিট রফতানি ছিল ৬১.৪১ শতাংশ; তবে একই অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে ৫৭.০৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কাঁচামালের (তুলা, সিন্থেটিক/ভিসকস ফাইবার, সিন্থেটিক/মিশ্র সুতা, কটন সুতা, টেক্সটাইল কাপড় এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক) আমদানি মূল্য ছিল ৪.০৪ বিলিয়ন ডলার– যা মোট তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের ৩৯ শতাংশ।
ফলস্বরূপ, ২০২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই খাতের নিট রফতানি ৬.৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়– যা এর আগের প্রান্তিকের (৫.৬২ বিলিয়ন ডলার) চেয়ে ১২.৬৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের (৫.৩৭ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
২০২৪ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আরএমজি পণ্যের জন্য কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছিল ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের– যা মোট তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের ৪৩ শতাংশ।
ফলে এ খাত থেকে নিট রপ্তানি ৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে– যা আগের প্রান্তিকের ৫.৮৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৪ শতাংশ এবং আগের বছরের একই প্রান্তিকের ৫.৬১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। 
২০২৫ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তৈরি পোশাক থেকে মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১০.৩৭ বিলিয়ন ডলার– যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। আগের প্রান্তিকে এ খাত থেকে মোট রফতানি আয় হয়েছিল ৯.৫১ বিলিয়ন ডলার। মূলত উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং পশ্চিমা বাজারগুলোতে ছুটির মৌসুমের কেনাকাটার কারণে পণ্যের চাহিদা ও রফতানি আয় বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার ৪২.৬২ শতাংশ এবং বোনা পোশাক বা ওভেন রফতানি ৩৭.৯২ শতাংশ অবদান রেখেছে।
আরএমজি-বহির্ভূত পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবদান ২.২৪ শতাংশ, কৃষি পণ্য ২.৫১ শতাংশ, পাটজাত পণ্য ১.৪৩ শতাংশ, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ ০.৮৭ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্য ০.৭৯ শতাংশ, কাঁচা পাট ০.৩৬ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের অবদান রয়েছে ১১.০১ শতাংশ।
২০২৫ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, কানাডা এবং বেলজিয়ামে রফতানি হয়েছে—যেখান থেকে মোট রফতানি আয়ের ৮.০৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
এরমধ্যে ৯০.১০ শতাংশ বা ৭.২৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে এই দেশগুলো থেকে– যারমধ্যে ওভেন রফতানির অবদান ৪৩.২৬ শতাংশ এবং নিটওয়্যার ৪৬.৮৪ শতাংশ। 
এই দেশগুলো থেকে তৈরি পোশাক রফতানি আয় আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৭.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, আগের অর্থবছরের একই ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৮.৭৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। 

অকা/তৈপোশি/ই/সকাল, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version