Close Menu
অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • শেয়ার বাজার
    • পর্যবেক্ষণ
    • আরও
      • আর্থিক খাত
      • আবাসন
      • তৈরি পোশাক
      • তথ্যপ্রযুক্তি
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • অপরাধ ও দুর্নীতি
      • শিল্প ও বাণিজ্য
      • রেমিট্যান্স
      • শিক্ষা
      • শিল্প
      • শ্রম বাজার
      • যোগাযোগ
      • জাতীয় অর্থনীতি
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • শেয়ার বাজার
    • পর্যবেক্ষণ
    • আরও
          • আর্থিক খাত
          • শিল্প ও বাণিজ্য
          • যোগাযোগ
          • অপরাধ ও দুর্নীতি
          • তথ্যপ্রযুক্তি
          • রেমিট্যান্স
          • শিক্ষা
          • শ্রম বাজার
          • জাতীয় অর্থনীতি
          • আবাসন
          • বিশ্ব অর্থনীতি
          • শিল্প
          • তৈরি পোশাক
    , |
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ

    ধুলোমাটির মহাকাব্য: নজরুলের গদ্যবিশ্ব ও সাম্যবাদী নন্দনতত্ত্বের অন্তর্বয়ন

    আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণUpdated:আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ3
    শেয়ার
    Facebook Twitter LinkedIn Email WhatsApp Copy Link

    গাউসুর রহমান

    বাংলা সাহিত্যের দিগন্তে কাজী নজরুল ইসলাম যখন ধূমকেতুর মতো উদিত হলেন, তখন চারদিকে এক থমথমে নিস্তব্ধতা। সেই নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে দিয়ে তিনি যে কেবল কবিতার ছন্দে ঝংকার তুলেছিলেন তা নয়, তাঁর গদ্যের শরীর থেকেও ঠিকরে বেরিয়েছিল এক অপ্রতিরোধ্য আলোর ঝিলিক। নজরুলকে আমরা বড় বেশি ‘বিদ্রোহী কবি’র ছাঁচে বেঁধে ফেলেছি। অথচ তাঁর গদ্যের গভীরে যে কত বড় এক দার্শনিক প্রান্তর ধুধু করছে, কত নিবিড় মমতায় তিনি মানুষের জীবনের অলিগলি ছুঁয়ে গেছেন, তা কি আমরা যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে দেখেছি? তাঁর গদ্য কেবল শব্দের পিঠে শব্দ সাজানো নয়; তা যেন এক লহমায় অগ্নিগিরির উত্তপ্ত লাভা, আবার পরক্ষণেই শ্রাবণের মেঘমুক্ত আকাশের স্নিগ্ধতা।

    নজরুলের গদ্যসত্তাকে বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই সময়ে, যখন পরাধীনতার গ্লানি আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে বাংলার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। নজরুল তাঁর গদ্যে কেবল বিপ্লবের মন্ত্র আওড়াননি, তিনি নির্মাণ করেছিলেন এক নতুন নন্দনতত্ত্ব যা মাটির খুব কাছ থেকে উঠে আসা মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর স্বপ্নের কথা বলে। এটি কোনো কৃত্রিম তাত্ত্বিক কাঠামো নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক সত্যের দলিল।


    নজরুলের প্রথমদিকের গদ্যের দিকে তাকালে দেখা যায় এক অদ্ভুত অস্থিরতা। ‘বাঁধন হারা’ উপন্যাসের সেই পত্রাবলি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, তা যেন এক শিকল ছেঁড়ার আর্তি। নূরু যখন অজানার টানে ঘর ছাড়ে, তখন তার সেই যাযাবর বৃত্তির মাঝে আমরা খুঁজে পাই এক আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব সংকটের ছায়া। অনেকে হয়তো এখানে জঁ-পল সার্ত্র বা আলবেয়ার কামুর অস্তিত্ববাদের ছোঁয়া পাবেন, কিন্তু নজরুলের এই মুক্তিপিপাসা ছিল অনেক বেশি আদিম এবং বাংলার মাটির সাথে সম্পৃক্ত।

    এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন একজন মানুষ সব কিছু ছেড়ে নিরুদ্দেশের পথে পা বাড়ায়? নজরুল তাঁর গদ্যে দেখিয়েছেন, এই পালানোটা কাপুরুষতা নয়, বরং নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নিরন্তর সাধনা। সমাজের জরাজীর্ণ প্রথা যখন মানুষের শ্বাসরোধ করে ধরে, তখন মুক্ত বাতাস পেতে গেলে ঘরের দেয়াল ভাঙতেই হয়। ‘বাঁধন হারা’র ভাষার দিকে তাকালে বোঝা যায়, নজরুল তখন গদ্যের প্রচলিত ব্যাকরণকে থোড়াই কেয়ার করছেন। তাঁর বাক্যগুলো ছোট, তীক্ষ্ণ এবং প্রাণের আবেগে ভরপুর। সেখানে কোনো মেদ নেই, আছে কেবল এক দুর্নিবার গতি।


    নজরুলের গদ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি সম্ভবত তাঁর সামাজিক বাস্তববাদ। ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসের কথা ভাবলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কৃষ্ণনগরের সেই মেথরপট্টি, অভাবী মানুষের হাহাকার আর ক্ষুধার এক আদিম রূপ। ক্ষুধা মানুষকে কেবল শারীরিক কষ্ট দেয় না, তা মানুষের মনুষ্যত্বকেও এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। এই উপন্যাসে নজরুল যে দারিদ্র্যের ছবি এঁকেছেন, তা কোনো দূর থেকে দেখা করুণা নয়; বরং তিনি নিজে সেই আগুনের পাশে বসে তার উত্তাপ নিয়েছেন।

    অনেকে একে মার্ক্সীয় বাস্তববাদ বলতে পারেন, কিন্তু নজরুলের এই সাম্যবাদ কোনো পুঁথিগত বিদ্যা থেকে আসেনি। তিনি দেখেছিলেন, একদিকে ধর্মের নামে ভণ্ডামি আর অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালায় কুঁকড়ে যাওয়া মানুষ। তাঁর গদ্যে যখন ক্ষুধার সেই রূঢ় বর্ণনা উঠে আসে, তখন পাঠক শিউরে ওঠেন। অথচ এর মাঝেই তিনি বুনে দেন প্রেমের এক সূক্ষ্ম সুতো। ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় হলেও, সেই গদ্যের ভেতরেই নজরুল খুঁজে পান সুন্দরের বীজ। ‘মৃত্যুক্ষুধা’র মেজবউ চরিত্রটি যেন বাংলার সেই চিরন্তন নারী, যে অভাবের তাড়নায় নিজেকে বিকিয়ে দিলেও অন্তরের মমতাটুকু হারায় না। নজরুলের গদ্যে এই যে পরস্পরবিরোধী অনুভূতির সহাবস্থান ক্ষুধা আর প্রেম, বিদ্রোহ আর করুণা এটাই তাঁর নন্দনতত্ত্বের মূল কথা।


    বিপ্লব কি কেবল বন্দুকের নল থেকে আসে? নজরুল তাঁর ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসে এই প্রশ্নটিকেই যেন এক নিবিড় তাত্ত্বিক জিজ্ঞাসায় রূপান্তরিত করেছেন। সশস্ত্র বিপ্লবের আড়ালে যে একাকিত্ব, যে মানসিক দ্বন্দ্ব কাজ করে, নজরুল তা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। জাহাঙ্গীর চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, একজন বিপ্লবীও দিনশেষে একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। তাঁরও হৃদয়ে প্রেম জাগে, বিরহ আসে।

    নজরুলের গদ্য এখানে অনেক বেশি গম্ভীর ও মরমী। তিনি বিপ্লবকে কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হিসেবে দেখেননি, একে দেখেছেন মানুষের আত্মার মুক্তি হিসেবে। শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো মানে কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং নিজের ভেতরের কাপুরুষতাকে জয় করা। ‘কুহেলিকা’র গদ্যে যে গাম্ভীর্য আর মিস্টিক আবহের ছোঁয়া পাওয়া যায়, তা নজরুলের চিন্তাশক্তির এক অনন্য উত্তরণকে নির্দেশ করে। তিনি যেন বলতে চান, প্রেমের উত্তাপ ছাড়া কোনো প্রকৃত বিপ্লব সম্ভব নয়। যে মানুষ ভালোবাসতে জানে না, সে মানুষের জন্য প্রাণ দিতেও পারে না।


    অন্যদিকে নজরুলের প্রবন্ধগুলো হলো একেকটি শাণিত তলোয়ার। ‘যুগবাণী’, ‘রুদ্র-মঙ্গল’ কিংবা ‘দুর্দিনের যাত্রী’র পাতা ওল্টালে মনে হয় যেন এক প্রলয়ংকরী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তিনি যখন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’তে নিজেকে ‘সত্যের সারথী’ হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন তা কেবল ব্রিটিশ আদালতের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ থাকে না, তা হয়ে ওঠে শাশ্বত অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন মানুষের প্রতিবাদ।

    তাঁর প্রবন্ধের ভাষা ছিল অদ্ভুতভাবে মিশ্রিত। সেখানে সংস্কৃতের ওজস্বিতা যেমন ছিল, তেমনি ছিল আরবি-ফারসি শব্দের সজীবতা। এই ভাষাতাত্ত্বিক সংকরায়ণ নজরুলের গদ্যকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভাষা কেবল পণ্ডিতদের ড্রয়িংরুমের আসবাব নয়, তা হওয়া উচিত খেটে খাওয়া মানুষের মুখের বোল। তাঁর প্রবন্ধে যখন তিনি বলেন “আমার হাতের ধূমকেতু এবার ভগবান সারথীর রথচক্রের তলায় পিষ্ট হইয়া মরুক, তবু যেন তাহার সেই মরণ-ঝলক সত্যের পথরেখাটি উজ্জ্বল করিয়া দিয়া যায়” তখন আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না যে, নজরুল সত্যের জন্য আত্মাহুতি দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এই আপসহীন মানসিকতাই তাঁর গদ্যকে এক নৈতিক দৃঢ়তা দান করেছে।


    বিদ্রোহের পাশে পাশেই নজরুলের গদ্যে প্রবাহিত হয়েছে এক বিরহের ফল্গুধারা। তাঁর ছোটগল্পের সংকলন ‘ব্যথার দান’ বা ‘রিক্তের বেদন’ পড়লে এক গভীর বিষাদ আমাদের ঘিরে ধরে। নজরুলের এই বিরহ কেবল ব্যক্তি-মানুষের বিচ্ছেদ নয়, এটি যেন এক অপূর্ণতার হাহাকার। সুফিবাদী দর্শনে যেমন ‘ইশক’ বা প্রেমের মাধ্যমে পরম সত্তাকে পাওয়ার আর্তি থাকে, নজরুলের গদ্যেও ঠিক সেই সুরটি খুঁজে পাওয়া যায়।

    তাঁর গল্পের ভাষা অনেক বেশি কাব্যিক। প্রকৃতি সেখানে মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে ওঠে। কোনো কোনো মুহূর্তে মনে হয়, নজরুল যেন গদ্য লিখছেন না, বরং শব্দের তুলিতে এক বিষাদময় ছবি আঁকছেন। তাঁর গল্পের চরিত্রগুলো প্রায়শই সমাজ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বা অবহেলিত। কিন্তু তাদের অন্তরে যে প্রেমের প্রদীপ জ্বলে, তা পার্থিব অভাবের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল। নজরুলের গদ্য আমাদের শেখায় যে, দুঃখ কেবল কাঁদায় না, দুঃখ মানুষকে ভেতর থেকে শুদ্ধ করে তোলে।


    নজরুলকে কেন ‘সাবঅল্টার্ন’ বা নিম্নবর্গের কথাকার বলা হয়? কারণ তিনি বাংলা গদ্যের আভিজাত্যের খোলস ভেঙে তাকে ধুলোমাটির মানুষের পাশে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন। বঙ্কিম বা রবীন্দ্রনাথের গদ্যে যে এক ধরণের ধ্রুপদী গাম্ভীর্য ছিল, নজরুল সেখানে নিয়ে এলেন এক ধরণের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ বা মেঠো সুর। তাঁর গদ্যে মুটে, মজুর, জেলে আর কৃষকদের ঘামের গন্ধ পাওয়া যায়।

    তিনি যখন ‘লাঙল’ বা ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় সম্পাদকীয় লিখতেন, তখন তাঁর কলম থেকে আগুনের ফুলকি ঝরতো। তাঁর বাক্যগঠন ছিল প্রথাবিরোধী। তিনি প্রচলিত ‘সাধু-চলিত’র দ্বন্দ্ব ছাপিয়ে এক ধরণের নিজস্ব ‘নজরুলীয় শৈলী’ তৈরি করেছিলেন। সেখানে শব্দের অভাব নেই, নেই কোনো সঙ্কীর্ণতা। তিনি জানতেন কখন বজ্রের মতো গর্জন করতে হয় আর কখন শিশিরের মতো স্নিগ্ধ হতে হয়। এই বৈচিত্র্যই তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অদ্বিতীয় গদ্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


    নজরুলের চিঠিপত্রগুলো তাঁর গদ্য প্রতিভার এক অনন্য দিক উন্মোচন করে। এখানে আমরা এক একাকী ও সংবেদনশীল মানুষকে খুঁজে পাই। বাইরের সেই রণক্লান্ত বিদ্রোহী বীরের অন্তরালে যে এক মরমী সত্তা লুকিয়ে ছিল, তা তাঁর চিঠিপত্রগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বন্ধুদের কাছে লেখা তাঁর চিঠিতে যেমন দারিদ্র্যের করুণ আর্তি আছে, তেমনি আছে জীবনের প্রতি এক গভীর অনুরাগ।

    তাঁর ভাষা এখানে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও কোমল। তিনি যখন তাঁর রোগশয্যার কথা লেখেন বা তাঁর সন্তান হারানোর শোক প্রকাশ করেন, তখন পাঠকের হৃদয়ে এক অব্যক্ত ব্যথার সৃষ্টি হয়। নজরুল তাঁর গদ্যে নিজেকে কখনও আড়াল করেননি। তিনি তাঁর সবটুকু আবেগ, সবটুকু দুর্বলতা নিয়ে পাঠকের সামনে দাঁড়িয়েছেন। এই যে অকৃত্রিম সত্যভাষণ, এটিই তাঁর গদ্যের আসল অলঙ্কার।


    তাত্ত্বিকভাবে দেখলে নজরুলের গদ্যে আমরা এক ধরণের ‘ডিকলোনাইজড’ বা বিউপনিবেশিত মনস্তত্ত্ব খুঁজে পাই। তিনি ব্রিটিশদের দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থা বা আইন ব্যবস্থাকে কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে, আমাদের নিজেদের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে, আমাদের নিজস্ব এক সত্য আছে।

    তাঁর গদ্যে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যে বিদ্রূপ আর শ্লেষ ফুটে ওঠে, তা অত্যন্ত উঁচু দরের। তিনি শোষকদের মুখোশ খুলে দিতে দ্বিধা করতেন না। তাঁর ‘যুগবাণী’ যখন বাজেয়াপ্ত হয়, তখন প্রমাণিত হয় যে নজরুলের কলম ব্রিটিশ কামানের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল। তিনি তাঁর গদ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই শিক্ষাই দিয়েছিলেন যে, মুক্তির জন্য কারোর দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না; মুক্তি আসে মানুষের ভেতরের সাহসের হাত ধরে।


    নজরুলের গদ্যের নন্দনতত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘মানুষ’। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প কেবল নন্দনতাত্ত্বিক আনন্দের জন্য নয়, বরং তা হতে হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাঁর কাছে সুন্দর মানে কেবল ফুলের হাসি বা জোছনার আলো নয়; সুন্দর হলো সেই পৃথিবী যেখানে কোনো শিশু না খেয়ে থাকবে না, যেখানে কোনো মানুষকে অবমাননা করা হবে না।

    এই সাম্যবাদী চেতনা তাঁর গদ্যে কোনো শুষ্ক শ্লোগান হয়ে আসেনি, বরং তা এসেছে এক গভীর মানবিক বোধ থেকে। তিনি বুঝেছিলেন, মানুষের পেটে যদি ভাত না থাকে, তবে তার কাছে বড় বড় দার্শনিক কথা অর্থহীন। তাই তাঁর গদ্যে ক্ষুধার কথা যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে সেই ক্ষুধাকে জয় করার স্বপ্নের কথা। নজরুলের গদ্য তাই একাধারে বাস্তববাদী এবং স্বপ্নদর্শী।


    কাজী নজরুল ইসলামের গদ্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শেষ পর্যন্ত এক অপার্থিব অনুভূতির সামনে এসে দাঁড়াতে হয়। তাঁর গদ্য পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা কেবল একজন সাহিত্যিকের কথা শুনছি না, বরং শুনছি আমাদের নিজেদেরই অবদমিত আত্মার চিৎকার। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হয়।

    নজরুলের গদ্য আজ বহু বছর পরেও ম্লান হয়নি। বরং বর্তমান বিশ্বের অসহিষ্ণুতা আর বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর কথাগুলো আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিচ্ছে। তাঁর গদ্যের সেই ‘লিবারেটিং পাওয়ার’ বা মুক্তির শক্তি আজও আমাদের প্রেরণা দেয়। তিনি ছিলেন এক চিরন্তন যাযাবর, এক অগ্নিবীণার সারথী যাঁর গদ্যের প্রতিটি শব্দ আজও আমাদের রক্তে শিহরণ জাগায়।

    নজরুল হয়তো আজ নেই, কিন্তু তাঁর সেই ‘রুদ্র-মঙ্গল’ বা ‘দুর্দিনের যাত্রী’র পদধ্বনি আমরা শুনতে পাই। তাঁর গদ্য সাহিত্য কেবল পড়ার বিষয় নয়, তা হলো এক জীবনদর্শন। সেই দর্শনের মূল কথা হলো মানুষই শ্রেষ্ঠ। আর এই শ্রেষ্ঠত্বকে রক্ষা করার জন্যই প্রয়োজন বিদ্রোহ, প্রয়োজন প্রেম এবং প্রয়োজন এক অখণ্ড সাম্যবাদ। নজরুলের গদ্যের এই যে মহাজাগতিক ধারা, তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অক্ষয় প্রদীপ হয়ে জ্বলবে অনন্তকাল।

    সর্বশেষ হালনাগাদ 11 hours আগে

    এই বিষয়ে আরও সংবাদ

    সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ : সিইসি

    দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

    মক্কা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশের সামনে ভূরাজনৈতিক বড় প্রশ্ন

    কী হবে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে

    সুপার পেট্রোকেমিক্যালের দ্বিতীয় আবেদনে নেই প্রথম নাকচের কথা

    মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ: যুদ্ধের রাজনীতিতে জড়ানোর ঝুঁকি কতটা?

    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক সংবাদ

    বাসসের নতুন এমডি ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী

    ধুলোমাটির মহাকাব্য: নজরুলের গদ্যবিশ্ব ও সাম্যবাদী নন্দনতত্ত্বের অন্তর্বয়ন

    সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ : সিইসি

    দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

    সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১২৯ বারের মতো পেছাল

    মক্কা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশের সামনে ভূরাজনৈতিক বড় প্রশ্ন

    মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের কিছু অদ্ভুত ঘটনা এবং সঙ্গীত জীবনের যত বিশ্বরেকর্ড

    নেপালে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি

    কী হবে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে

    বিয়ের সংবাদটা আমাকেই দিতে দিন : প্রভা

    সুপার পেট্রোকেমিক্যালের দ্বিতীয় আবেদনে নেই প্রথম নাকচের কথা

    মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ: যুদ্ধের রাজনীতিতে জড়ানোর ঝুঁকি কতটা?

    প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিক গ্রেফতার

    মিউজিক চার্টে এআই নির্মিত গান নিষিদ্ধের হিড়িক ও সুরের স্বত্বাধিকার

    পররাষ্ট্রনীতি চলুক রাষ্ট্রীয় স্বার্থে, ব্যক্তিগত আবেগে নয়

    যন্ত্রপাতি বন্দরে, ঋণের বোঝা ব্যাংকে—উৎপাদনহীন ৭ হাজার কোটির প্রকল্প

    সেপ্টেম্বরে ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

    বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি

    ৮ মাসে কাজ হারিয়েছে ৬২ হাজার শ্রমিক

    দাউদপুরে এক মাঠে স্বাস্থ্য-ভূমি-এনআইডিসহ সব সরকারি সেবা

    সম্পাদক প্রণব কুমার মজুমদার

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় - ৬২/১, পুরানা পল্টন (দোতলা), দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

    বিটিসিএল ফোন +৮৮০২৪১০৫১৪৫০ +৮৮০২৪১০৫১৪৫১ +৮৮০১৫৫২৫৪১৬১৯ (বিকাশ) +৮৮০১৭১৩১৮০০৫৩

    ইমেইল - arthakagaj@gmail.com

    Editor PRANAB K. MAJUMDER
    Editorial & Commercial Office - 62/1, Purana Paltan (1st Floor), Dainik Bangla Crossing, Paltan, Dhaka, Bangladesh.
    BTCL Phone +880241051450 +880241051451 +8801552541619 (bkash) +8801713180053
    Email - arthakagaj@gmail.com

    ২০২৪
    অর্থকাগজ
    | আমাদের বৃত্তান্ত | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা | প্রচার | বিজ্ঞাপন | বিজ্ঞপ্তি | যোগাযোগ

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.