অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি তথা বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য দেশী ও বহুজাতিক মৌলভিত্তিসম্পন্ন তথা ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজি বাজারে আনতে বাধ্যবাধকতা আরোপের জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে সংস্থাটি। ২ সেপ্টেম্বর সংস্থার চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৭১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সংস্থার মুখপাত্র ও পরিচালক মো: আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
একই সভায় কমিশন ডিপজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩ এর তফসিল-৪ এর ক্রমিক নম্বর ৩ অনুযায়ী সেবার ফি হার সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব জনমত জরিপ তথা সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এটি যথাশিগগির সরকারি গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কমিশন সভায়, প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক (১১ মে ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত) এর দেশী-বিদেশী বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে পুঁজি বাজারে আনয়নের নির্দেশনার আলোকে পাবলিক ইন্টারেস্ট এনটিটিগুলোকে (জনস্বার্থ সংস্থা) দেশের পুঁজি বাজারে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনা পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএসইসির প থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১১ মে প্রধান উপদেষ্টার সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিএসইসি ও পুঁজি বাজারের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দেশী-বিদেশী বড় কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে আনতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই এবার শক্তিশালী আইনগত কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, তালিকাভুক্তির বিভিন্ন শর্ত প্রতিপালন করে স্বেচ্ছায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজি বাজারে আসতে আগ্রহী নয়। তাই আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করলে প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হতে বাধ্য হবে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশেই এই ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা প্রচলিত রয়েছে।
জানা যায়, বর্তমান ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ) অনুযায়ী, ‘জনস্বার্থ সংস্থা’ বলতে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিএসইসিতে প্রতিবেদন জমাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ুদ্রঋণ সংস্থা এবং নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ, রাজস্ব বা দায়সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়। এফআরসির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বার্ষিক রাজস্ব ৫০ কোটি টাকা, মোট সম্পদ ৩০ কোটি টাকা এবং মোট দায় ১০ কোটি টাকার মধ্যে যেকোনো দু’টি শর্ত পূরণ করলেই কোনো প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থ সংস্থা হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
তা ছাড়া সভায় সংশোধনী অনুযায়ী বার্ষিক ডিপজিটরি (বিও) হিসাব রণাবেণ ফি হার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা ডিপজিটরি, ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্টস (ডিপি) ও বিএসইসির মধ্যে সমভাবে বণ্টিত হবে অর্থাৎ প্রত্যেকে ৫০ টাকা হারে ওই ফি প্রাপ্ত হবেন। সরকারি গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হবে। পূর্ববর্তী অর্থ বছরের েেত্র সংশোধন-পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী ডিপজিটরি ফি অর্থাৎ ৪৫০ টাকা হারে প্রযোজ্য থাকবে। এ ছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের অগ্রিম বার্ষিক ডিপজিটরি (বিও) হিসাব রণাবেণ ফি হিসাবায়নের সময়সীমা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে, দেশের পুঁজি বাজারে লেনদেন সূচকের উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর নতুন অবস্থানে পৌঁছেছে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। ৩ সেপ্টেম্বর বাজারটি এক হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১১৯ কোটি টাকা বেশি। তবে দিনের শুরুতে বাজারটিতে সূচকের উন্নতি ও লেনদেনের গতি দেখে মনে হচ্ছিল ৩ সেপ্টেম্বর দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে ডিএসইর লেনদেন। কারণ প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইর লেনদেন রেকর্ড করা হয় ৫১৭ কোটি টাকা। চার ঘণ্টা ২০ মিনিটে তা দুই হাজার কোটিতে পৌঁছার কথা। কিন্তু লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে বাজারে বেশ কয়েকবার বিক্রয়চাপ তৈরি হলে হ্রাস পায় লেনদেনের গতি।
৩ সেপ্টেম্বর দিনের শুরুতে দুই বাজার সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটে। ডিএসইতে পাঁচ হাজার ৬২০ দশমিক ৯১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সকাল সোয় ১০টায় পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ৬৬৭ পয়েন্টে। কিন্তু এর পরই বিক্রয়চাপের কবলে পড়ে বাজার। মাঝখানে চাপ সামলে আরো একবার ঊর্ধ্বমুখী হতে চাইলেও নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। দিনশেষে সূচকের ১০ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয় ডিএসই। এ সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ দশমিক ৭২ ও দশমিক ৫৪ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে।
অপরদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৭৮ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ৮৯ ও ৫৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট।
৩ সেপ্টেম্বর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাজারে যে বিক্রয়চাপ তৈরি হয় তা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে সাম্প্রতিক সময়ে টানা মূল্যবৃদ্ধিতে থাকা কোম্পানিগুলোকে। বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানি থেকে মুনাফা তুলে নিতে গেলে কমবেশি দর হারায় কোম্পানিগুলো। তবে একই সময় বিভিন্ন খাতের কিছু নতুন কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কিছু কোম্পানি। ২ সেপ্টেম্বরের মতো ৩ সেপ্টেম্বর এ খাতের দু’টি কোম্পানি ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধি শীর্ষস্থানে জায়গা করে নেয়। এ ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে কয়েকটি ব্যাংক কোম্পানিও।
৩ সেপ্টেম্বর ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংক কোম্পানি সিটি ব্যাংক। ৬৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির দুই কোটি ৫৩ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ৩ সেপ্টেম্বর। ৫০ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় ৯ লাখ ছয় হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ওরিয়ন ইনফিউশন ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ইস্টার্ন ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা ব্যাংক, মালেক স্পিনিং মিলস, লাভেলো আইসক্রিম, ইনটেক অনলাইন, সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

